কবর থেকে সেলিম ও তার ছেলে চিত্রনায়ক শান্তর লাশ উত্তোলন

আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য সেলিম খান ও তার ছেলে চিত্রনায়ক শান্ত খানের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। ছবি: আগামীর সময়
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় গণপিটুনিতে নিহত চাঁদপুরের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খান ও তার ছেলে চিত্রনায়ক শান্ত খানের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য আজ বুধবার সকালে সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নে তাদের মরদেহ উত্তোলন করা হয়।
সকালে প্রথমে সেলিম খানের মরদেহ কবর থেকে তোলা হয়। এর কিছুক্ষণ পর তার ছেলে শান্ত খানের মরদেহও উত্তোলন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চাঁদ মিয়া।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর ময়নাতদন্তের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে আবেদন করা হয়। জেলা প্রশাসক আবেদনটি মঞ্জুর করার পর আজ মরদেহ উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
সেলিম খান সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান শাপলা মিডিয়ার স্বত্বাধিকারী ছিলেন। তার ছেলে শান্ত খানও একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
সেলিম খানের বিরুদ্ধে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ ছিল। চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগের পর তিনি দেশজুড়ে ‘বালুখেকো চেয়ারম্যান’ হিসেবে আলোচিত হন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাজস্ব ফাঁকির একাধিক মামলা ছিল। এসব ঘটনায় তিনি কারাগারেও ছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন সন্ধ্যায় এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করার সময় জনতার পিটুনিতে সেলিম খান ও তার ছেলে শান্ত খান নিহত হন।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মামলা করে। ওই মামলার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালত কবর থেকে মরদেহ দুটি তুলে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।




