জজকোর্টেও জামিন পেলেন না ডন

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলনায়ক হিসেবে পরিচিত র জামিন আবেদন নাকচ করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তাওহীদা আক্তার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এদিন আসামিপক্ষের আইনজীবী মফিজুল ইসলাম ডনের জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, আশরাফুল হক ডন ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানতেন না। তাঁকে অহেতুক হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মামলায় জড়ানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী তিনি জামিন পাওয়ার হকদার। এ ছাড়া তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা রয়েছে এবং জামিন পেলে তিনি পলাতক হবেন না বলেও আদালতকে জানান আইনজীবী। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে থাকা অবস্থায় গত ২০ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মো. মুজিবুর রহমান তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। পরে ২৭ আগস্ট শুনানি শেষে আদালত তাঁর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে গত ৯ সেপ্টেম্বর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
গত ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা অপমৃত্যু মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন আদালত। এ নির্দেশের পর ওই দিন মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। মামলায় সাবেক স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন সামীরা হকের মা লতিফা হক লুছি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ। তবে আসামিদের তালিকায় লতিফা হক লুছির নাম দুবার উল্লেখ করা হয়েছে বলে মূল তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় তাঁর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা করেন। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করা হয়। বিষয়টি তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। তদন্ত শেষে ওই বছরের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করেন।
কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে হত্যা মামলার বাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন মা নীলা চৌধুরী। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজির আবেদন করেন।
সর্বশেষ মামলাটি তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর আদালত পিবিআইয়ের প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলাটি নিষ্পত্তি করেন। পরে ২০২২ সালের ১২ জুন ওই আদেশের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন মামলা করা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর গত ২০ অক্টোবর অপমৃত্যুর মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন আদালত।




