সালমান শাহর ৫৫তম জন্মদিন আজ

সালমান শাহ
চিত্রনায়ক সালমান শাহর ৫৫তম জন্মদিন আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর)। বেঁচে থাকলে আজ ৫৫ বছর পূর্ণ করে ৫৬ বছরে পা দিতেন বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় এই নায়ক। হয়তো জন্মদিন ঘিরে থাকত বর্ণাঢ্য আয়োজন। তবে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে যান তিনি।
সালমান শাহর মৃত্যুবার্ষিকী কিংবা জন্মদিন এলেই শুধু তাকে নিয়ে আলোচনা হয়, এমন নয়। মৃত্যুর তিন দশক পরও বিভিন্ন সময় নানা কারণে দর্শক ও ভক্তদের আলোচনায় থাকেন নব্বইয়ের দশকের এই জনপ্রিয় অভিনেতা।
সালমান শাহর জন্মদিন উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে ওঠা ‘সালমান শাহ ফ্যান ক্লাব’-এর সদস্যরা নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করছেন। তবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে সালমান শাহর জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ কোনো আয়োজন রাখা হয়নি।
১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন সালমান শাহ। তার বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী এবং মা নীলা চৌধুরী। সিলেট শহরের শেখঘাটে ছিল সালমানের দাদার বাড়ি। আর নানার বাড়ি ছিল দারিয়াপাড়ায়, যে বাড়িটি বর্তমানে ‘সালমান শাহ হাউজ’ নামে পরিচিত।
সালমান শাহর নানা পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এ অভিনয় করেছিলেন। নানার অনুপ্রেরণাতেই অভিনয়ে আসেন সালমান। স্কুলজীবন থেকেই বন্ধুমহলে সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। ১৯৮৬ সালে ছায়ানট থেকে পল্লীগীতিতে কোর্স সম্পন্ন করেন সালমান শাহ।
চলচ্চিত্রে আসার আগেই ১৯৯২ সালের ১২ আগস্ট সামিরা হকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। তবে এর আগেই নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তার অভিনয়জীবন শুরু হয়। মঈনুল আহসান সাবেরের লেখা ধারাবাহিক নাটক ‘পাথর সময়’-এ একটি চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে টেলিভিশনে যাত্রা শুরু করেন সালমান। নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে তৌকীর আহমেদ অভিনয় করলেও সালমানের চরিত্রটিও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তীতে আরও কয়েকটি নাটকে অভিনয় করে প্রশংসিত হন তিনি।
তবে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেকের পর রাতারাতি দর্শকপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে আসেন সালমান শাহ। মৌসুমীর বিপরীতে অভিনয় করে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তার। পরে মৌসুমীর সঙ্গে আরও দুটি সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি।
তবে শাবনূরের সঙ্গে সালমান শাহর জুটিই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পায়। এই জুটিকে এখনো বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শাবনূরের পাশাপাশি শাবনাজ, শাহনাজ, লিমা, শিল্পী, শ্যামা, সোনিয়া, বৃষ্টি, সাবরিনা ও কাঞ্চির সঙ্গেও জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন সালমান শাহ।
জীবদ্দশায় নিজের অভিনীত বেশ কয়েকটি সিনেমার সাফল্য দেখে যেতে পেরেছিলেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘তুমি আমার’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘সুজন সখি’, ‘বিক্ষোভ’, ‘প্রেম যুদ্ধ’, ‘কন্যাদান’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘আঞ্জুমান’, ‘মহামিলন’, ‘আশা ভালোবাসা’, ‘বিচার হবে’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘প্রিয়জন’, ‘তোমাকে চাই’ ও ‘স্বপ্নের পৃথিবী’।
সালমান শাহ জীবদ্দশায় সর্বশেষ ‘স্বপ্নের পৃথিবী’ সিনেমার সাফল্য উপভোগ করে যেতে পেরেছিলেন। সিনেমাটি মুক্তি পায় ১৯৯৬ সালের ১২ জুলাই। তার মৃত্যুর দিনই রায়হান মুজিব পরিচালিত ‘আখেরী মোকাবেলা’ সিনেমাটি মুক্তি পায়। এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর মুক্তি পায় ‘সত্যের মৃত্যু নেই’।
সালমান শাহর মৃত্যুর পরও তার অভিনীত সিনেমাগুলো দর্শকের কাছে ব্যাপক সাড়া পায় এবং ব্যবসাসফল হয়। এর মধ্যে রয়েছে ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘জীবন সংসার’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘প্রেম পিয়াসী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘শুধু তুমি’, ‘আনন্দ অশ্রু’ ও ‘বুকের ভেতর আগুন’।
সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় এক বছর পর, ১৯৯৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর মুক্তি পায় তার অভিনীত সর্বশেষ সিনেমা ‘বুকের ভেতর আগুন’। পর্দায় তার উপস্থিতি থেমে গেলেও বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকের কাছে আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন এই নায়ক।





