পরীমনির সাদামাটা জন্মদিন

পরীমনি
ঢাকাই চলচ্চিত্রের চিত্রনায়িকা পরীমনির জন্মদিন মানেই একসময় ছিল জমকালো আয়োজন। তারকাদের উপস্থিতি, ঝলমলে সাজসজ্জা আর ব্যতিক্রমী উদ্যাপনে দিনটি ঘিরে থাকত নানা আয়োজন। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে তার জন্মদিন উদ্যাপনের ধরন। এবার ৩৪তম জন্মদিনের প্রথম প্রহর দুই সন্তানকে নিয়ে ঘরোয়া পরিবেশে কাটিয়েছেন এই অভিনেত্রী। জীবনের এই পর্যায়ে এসে তার চাওয়া শান্তি, সত্যিকারের বন্ধুত্ব আর কাজের মধ্য দিয়ে মানুষের মনে জায়গা করে নেওয়া।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) পরীমনির জন্মদিন। শুক্রবার দিবাগত রাতে নিজের দুই সন্তান ছেলে পূণ্য ও মেয়ে প্রিয়মকে সঙ্গে নিয়ে জন্মদিনের কেক কাটেন তিনি। পরে সেই বিশেষ মুহূর্তের একটি ভিডিও নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। ভিডিওতে সন্তানদের সঙ্গে আনন্দঘন মুহূর্তে দেখা যায় তাকে। কেক কাটার সময় দুই সন্তানও মাকে ভালোবাসায় ভরিয়ে দেয়।
ভিডিওর ক্যাপশনে পরীমনি লেখেন, ‘হ্যাপি বার্থডে টু মি!’ সঙ্গে জুড়ে দেন লাল হৃদয় ও ফুলের ইমোজি। তার এই পোস্টের পর ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে শুরু করেন।
আগের বছরগুলোর মতো এবার বড় কোনো আয়োজনের বদলে সন্তানদের সঙ্গেই জন্মদিনের সূচনা করেছেন পরীমনি। ব্যক্তিজীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বর্তমানে দুই সন্তানকে ঘিরেই তার জীবনের বড় একটি অংশ আবর্তিত হচ্ছে।
জন্মদিনে নিজের চাওয়া-পাওয়ার কথা জানিয়ে পরীমনি বলেছেন, জীবনের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। এখন সন্তান ও ক্যারিয়ারই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কাজের মাধ্যমে মানুষের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিতে চান তিনি।
এবারের জন্মদিনে পরীমনির বিশেষ চাওয়া শান্তি, প্রকৃত বন্ধুত্ব এবং ভুয়া মানুষ ও ভুয়া বন্ধুত্ব থেকে মুক্তি। তার ভাষায়, বন্ধুর সংখ্যা কম হলেও সমস্যা নেই, যদি তারা সত্যিকারের বন্ধু হন। কাছের মানুষদের সঙ্গে শান্তি ও আনন্দ খুঁজে নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
২০১৫ সালে ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় পরীমনির। এরপর ‘স্বপ্নজাল’, ‘বিশ্বসুন্দরী’ ও ‘গুণিন’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকের নজর কাড়েন তিনি। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও কাজ করেছেন এই অভিনেত্রী।
একসময় জাঁকজমকপূর্ণ জন্মদিন উদ্যাপনের জন্য আলোচনায় থাকা পরীমনির এবারের আয়োজন যেন জীবনের বদলে যাওয়া বাস্তবতাকেই তুলে ধরেছে। বড় আয়োজনের চেয়ে সন্তানদের সঙ্গ, মানসিক শান্তি, সত্যিকারের সম্পর্ক আর ভালো কাজের মধ্য দিয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকার প্রত্যাশাই এখন তার জন্মদিনের চাওয়া।





