রোমান্টিক নাটক-সিনেমা বন্ধ চাওয়া আইনজীবী নিজেই প্রেমের সিনেমার ভক্ত

নিজেই পছন্দ করেন রোমান্টিক গান, পছন্দ করেন প্রেম-ভালোবাসাসংক্রান্ত চলচ্চিত্র, অথচ এই প্রেম-রোমান্সনির্ভর নাটক ও সিনেমা নির্মাণ বন্ধে সরকারকে আইনি নোটিশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন।
এই নোটিশকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার থেকেই সামাজিক মাধ্যমে উত্তাল হয়ে ওঠে আলোচনা। বিশেষ করে দেশীয় শোবিজ অঙ্গনে বিষয়টি ব্যাপক আলোড়ন তোলে। বিষয়টি ক্রমেই আলোচনার কেন্দ্রে জায়গা করে নেয়। তবে পরের দিন জানা গেল, সেই আইনজীবীই রোমান্টিক সিনেমার দারুণ ভক্ত।
২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট বলিউডের একটি রোমান্টিক হিন্দি গান পোস্ট করে মো. মাহমুদুল হাসান মামুন নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘এই গানটি খুব সুন্দর।’
একই বছরের ৫ আগস্ট তিনি ফেসবুকে লেখেন, ‘‘ছুটির দিনে ‘রাধে শ্যাম’ সিনেমা দেখছি। ভেরি কমপ্লিকেটেড লাভ স্টোরি।’’ অর্থাৎ তিনি বলিউডের প্রেম-ভালোবাসাবিষয়ক একটি সিনেমা দেখছিলেন এবং সেটি ফেসবুকেও বন্ধুদের জানিয়েছিলেন।
এর আগে একই বছরের ৯ মে তিনি হলিউডের রোমান্টিক ফ্যান্টাসি অ্যাডভেঞ্চার সিনেমা ‘স্টারডাস্ট’ দেখার বিষয়েও ফেসবুকে পোস্ট করেন।
অথচ সম্প্রতি দেশের নাটক ও সিনেমায় প্রেম-রোমান্সের আধিক্য নিয়ে আপত্তি তুলে এর লাগাম টানার দাবি জানিয়ে শুধু প্রেম ও রোমান্সকেন্দ্রিক গল্পে নাটক-সিনেমা নির্মাণ ও সম্প্রচার বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারকে আইনি নোটিশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জনস্বার্থে পাঠানো ওই নোটিশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব, সংস্কৃতিবিষয়ক সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যানকে প্রাপক করা হয়েছে।
নোটিশে আইনজীবী অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের চলচ্চিত্র ও নাটকে প্রেম ও রোমান্সনির্ভর গল্পের পরিমাণ বেড়েছে। এতে সাংস্কৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার থেকে মনোযোগ সরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নোটিশে কিছু নাটক ও চলচ্চিত্রে পরকীয়া এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের বিষয়েও আপত্তি জানানো হয়েছে। এ ধরনের উপস্থাপনা পারিবারিক মূল্যবোধ ও সামাজিক নৈতিকতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি অনৈতিক সম্পর্কের অবাধ প্রদর্শন সমাজে নৈরাজ্য ও অপরাধ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
নিজের দাবির পক্ষে সংবিধানের ২১(১), ২৩ ও ৩৯ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করেছেন আইনজীবী। নোটিশে বলা হয়েছে, ৩৯ অনুচ্ছেদে বাক্স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকলেও শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ আরোপের সুযোগ রয়েছে। আর ২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণ রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
নোটিশ পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে জানাতে বলা হয়েছে। অন্যথায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট পিটিশন করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।








