সালমানের কান্নার কারণ ছিলেন ঐশ্বরিয়া?

সংগৃহীত ছবি
বলিউডের ট্রু-লাভ স্টোরি আর রিয়েল-লাইফ ট্র্যাজেডির কথা উঠলে আজও সবার আগে যে জুটির নাম মাথায় আসে, তারা হলেন সালমান খান এবং ঐশ্বরিয়া রাই। রুপালি পর্দায় ‘হাম দিল দে চুকে সানম’ ছবিতে তাদের যে প্রেম আর বিরহ দর্শক দেখেছিলেন, পর্দার আড়ালেও যে ঠিক ততটাই তীব্র এক ঝড় বইছিল, তা আরও একবার প্রমাণ হলো। ছবির অন্যতম জনপ্রিয় গান ‘তাড়প তাড়প কে ইস দিল সে’ আজও কোটি প্রেমিকের মন ভাঙার অ্যান্থেম, তা শোনার পর সালমানের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল, তা এত বছর পর জনসমক্ষে আনলেন ছবির জাতীয় পুরস্কারজয়ী সংগীত পরিচালক ইসমাইল দরবার।
আজকের দিনে সালমান খানকে ‘ভাইজান’ বা এক শক্ত মনের মানুষ হিসেবে চেনা গেলেও, ১৯৯৯ সালে তিনি ছিলেন এক আবেগী প্রেমিক। ইসমাইল দরবার জানালেন, গানের রেকর্ডিং ও ডাবিংয়ের সময় যখন সঞ্জয় লীলা বানসালি গানটি বাজাচ্ছিলেন, তখন গানের লিরিক্স আর কে কে-র কণ্ঠের করুণ সুর সালমানের মনের ভেতর এতটাই আঘাত করে যে তিনি নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। সালমান সরাসরি সুরকারকে অনুরোধ করেছিলেন, ‘এই গানটি আমার সামনে বাজাবেন না, এটি আমাকে অনেক কষ্ট দেয়।’ ইসমাইল দরবার স্পষ্ট জানালেন, তিনি স্বয়ং সালমানকে সেই গানের সুর শুনে অঝোরে কাঁদতে এবং বুকফাটা চিৎকার করতে দেখেছিলেন।
ছবির সেট নিয়ে পরিচালক বানসালিও স্বীকার করেছেন, সেই দিনগুলোতে ছবির সেটে এক জাদুকরী আবহ ছিল। সালমান-ঐশ্বরিয়ার বাস্তব জীবনের রসায়ন পর্দার ‘সমীর’ আর ‘নন্দিনী’ চরিত্র দুটিকে অমর করে তুলেছিল। কিন্তু পর্দার সেই বিরহ যে বাস্তবেও তাদের জীবনে কড়া নাড়ছিল, তা হয়তো তখন কেউ ভাবেনি।
২০০২ সালে বলিউডের এই পাওয়ার কাপলের অফিসিয়াল ব্রেকআপের পর রাজকীয় এই জুটিকে আর কখনো স্ক্রিন শেয়ার করতে দেখা যায়নি। পরে সিমি গারেওয়ালের টক শোয় ঐশ্বরিয়া স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, জীবনের সেই অন্ধকার অধ্যায়টি তিনি চিরকালের জন্য লক করে দিয়েছেন এবং জনসমক্ষে তা নিয়ে আর কোনো আলোচনা করতে চান না। ২০০৭ সালে বচ্চন পরিবারের বধূ হয়ে ঐশ্বরিয়া নিজের জীবনে এগিয়ে যান, আর সালমান আজও রয়ে গেছেন বলিউডের মোস্ট এলিজিবল ব্যাচেলর।
তবে আজ এত বছর পর ইসমাইল দরবারের এই স্মৃতিচারণা প্রমাণ করে দিল, ‘তাড়প তাড়প’ গানটি কেবল সিনেমার জন্য তৈরি কোনো গান ছিল না, এটি ছিল একজন প্রেমিকের হৃদয়ের বাস্তব হাহাকার!







