ছয় বছর পরও স্মৃতিতে অমলিন সুশান্ত সিং রাজপুত

সুশান্ত সিং রাজপুত
সময় নদীর মতো বয়ে যায়, কিন্তু কিছু স্মৃতি আর কিছু মানুষ আলোর মতোই চিরকাল উজ্জ্বল থেকে যায়। আজ ১৪ জুন, ২০২৬। বলিউড তথা ভারতীয় সিনেমা জগতের অন্যতম প্রতিভাবান ও স্বপ্নবাজ অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের প্রয়াণের আজ ঠিক ছয় বছর পূর্ণ হলো। ২০২০ সালের এই দিনে তার চলে যাওয়ার খবর স্তব্ধ করে দিয়েছিল কোটি কোটি ভক্তকে। আজ, ছয় বছর পর, তার চলে যাওয়ার ক্ষত বুকে নিয়ে তার বোন শ্বেতা সিং কীর্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় সুশান্তের একটি এআই-জেনারেটেড ভগবান রাম-এর রূপে ছবি শেয়ার করে ভাইকে এক অনন্য ও আধ্যাত্মিক শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়েছেন।
শ্বেতা তার পোস্টে পরিষ্কার জানিয়েছেন, ছয় বছর পর এসে তিনি আর শোক বা বিষাদে ডুব দিতে চান না। বরং সুশান্তের সেই চিরপরিচিত হাসিমুখ, তার উপচে পড়া কৌতূহল এবং জীবনকে দেখার তার যে বিজ্ঞানমনস্ক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, তা নিয়েই বাঁচতে চান। সুশান্ত কেবল একজন অভিনেতাই ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমী, যিনি আকাশের তারা, কোয়ান্টাম ফিজিক্স এবং মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাতে ভালোবাসতেন। শ্বেতা মনে করিয়ে দেন, সুশান্তের প্রতি আসল শ্রদ্ধা হবে তখন, যখন আমরা কারো প্রতি রাগের বদলে দয়া দেখাব এবং অহংকারের বদলে শিক্ষা ও মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধকে বেছে নেব।
সুশান্ত সিং রাজপুত এমন একজন তারকা ছিলেন, যিনি পর্দার বাইরে সবসময় সুবিধাবঞ্চিত সাধারণ শিশুদের শিক্ষার প্রসারে এবং তাদের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। শ্বেতার কথায়, ‘সাফল্যের কোনো মূল্য নেই যদি তার সাথে মানুষের প্রতি সহানুভূতি না থাকে।’ সুশান্তের সেই ২৫টি স্বপ্নের ডায়েরি এবং তার ডেস্কে পড়ে থাকা টেলিস্কোপটি আজও ভক্তদের মনে করিয়ে দেয় যে, তিনি এই পৃথিবীর চকমকানির চেয়ে মহাবিশ্বের বিশালতার দিকে তাকাতেই বেশি ভালোবাসতেন। শোনা যায় মহাকাশের প্রতি ভালোবাসার জন্য তিনি চাঁদের দূরবর্তী অংশের ‘মেয়ার মাস্কোভিয়েন্স’ অঞ্চলে এক টুকরো জমি কিনেছিলেন।
শ্বেতা তার আবেগঘন চিঠির ইতি টেনেছেন এই বলে, একটি জীবন কত দীর্ঘ হলো তা দিয়ে জীবনের পরিমাপ করা যায় না, বরং সেই জীবন কতগুলো ঘুমন্ত হৃদয়কে জাগিয়ে তুলতে পারল— সেটাই আসল পরীক্ষা। আর সেই দিক থেকে সুশান্ত সিং রাজপুত আজও লক্ষ লক্ষ তরুণের মনে এক বিরাট অনুপ্রেরণা হিসেবে বেঁচে আছেন। শ্বেতার শেয়ার করা সুশান্তের ‘রাম’ রূপের ছবিটির নিচে ভক্তরা মন্তব্য করেছেন— ‘সুশান্ত কোনো সাধারণ তারকা ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক পবিত্র আত্মা।’





