কৃষ্ণসার হরিণ নিয়ে হচ্ছে সিনেমা, লক্ষ্য সালমান খান?

মুক্তির আগেই আদালতে ‘কালা হিরণ’
বলিউডের ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি এবং বিপজ্জনক রিয়েল-লাইফ ড্রামা এবার রুপালি পর্দায় পা রাখতে চলেছে। তবে ছবিটির ফার্স্ট লুক পোস্টার ও টিজার সামনে আসতেই বলিপাড়ার ভেতরের আইনি যুদ্ধ ঘরের চার দেয়াল পেরিয়ে সোজা পৌঁছে গেছে দিল্লি হাইকোর্টে। একদিকে গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ক্রমাগত হুমকি আর অন্যদিকে এই সংঘাত নিয়ে তৈরি হতে যাওয়া সিনেমা ‘কালা হিরণ: দ্য ব্যাটল ফর লেগাসি’ সব মিলিয়ে সালমান খানের নিরাপত্তা এবং আইনি টিম এখন হাই-অ্যালার্টে রয়েছে।
ছবির পোস্টার এবং টিজার মুক্তি পাওয়ার পরপরই সালমান খানের আইনি দল দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। অভিনেতার আইনজীবীদের অভিযোগ, সিনেমাটিতে সরাসরি সালমান খানের নাম ব্যবহার না করা হলেও পোস্টারে যে অবয়বটি দেখানো হয়েছে, তার হাতে সালমানের সেই বিশ্বখ্যাত ‘নীল ফিরোজা ব্রেসলেট’সদৃশ একটি ব্রেসলেট দেখা যাচ্ছে। আদালতে করা আবেদনে বলা হয়েছে, এটি সালমান খানের ব্যক্তিত্বের অধিকার এবং খ্যাতির চরম লঙ্ঘন। উপরন্তু, অস্ত্র মামলায় সালমান খান আদালত থেকে খালাস পাওয়া সত্ত্বেও সিনেমায় তার মতো দেখতে চরিত্রটিকে বড় বন্দুক হাতে দেখানো হচ্ছে, যা জনসাধারণের মনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে এবং রাজস্থান হাইকোর্টে চলমান মূল মামলার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
পরিচালক ভরত এস শ্রীনাতে ও প্রযোজক অমিত জানির এই ছবিতে মূল চরিত্রে পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় অভিনয় করছেন বলিউডের প্রখ্যাত অভিনেতা মুকেশ তিওয়ারি। ছবির টিজারে গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের আদলে একটি চরিত্র তৈরি করা হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘লায়ন বিষ্ণোই’। সিনেমার সংলাপে দাবি করা হয়েছে যে এই চরিত্রটি মুম্বাইয়ের পুরনো আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের চেয়েও বেশি শক্তিশালী, যে কিনা জেলের ভেতরে বসেই রাজস্থান, পাঞ্জাব ও হরিয়ানার পুরো নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করে। এ ছাড়া ছবিতে বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের সেই ঐতিহাসিক ত্যাগের কথা তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে প্রকৃতির জন্য ৩৬৩ জন মানুষ নিজেদের জীবন বিসর্জন দিয়েছিলেন।
বিতর্কটি আরও উগ্র রূপ ধারণ করে যখন প্রযোজক অমিত জানি ক্যামেরার সামনে সালমান খানের পাঠানো আইনি নোটিশটি কুচি কুচি করে ছিঁড়ে ফেলেন। অমিত জানির দাবি, এটি কোনো বায়োপিক বা তথ্যচিত্র নয়, বরং একটি স্বাধীন কোর্টরুম ড্রামা। তিনি অভিযোগ করেন, এই সিনেমার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে আন্ডারওয়ার্ল্ড ও তথাকথিত ‘ডি কোম্পানি’-র নাম করে তার পরিবারকে অনবরত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তবে হুমকি বা আইনি নোটিশ কোনো কিছুর সামনেই তিনি মাথা নত করবেন না এবং আইনি লড়াই আদালতের বুকেই লড়বেন।
বাস্তবজীবনের এই চরম সংঘাত থিয়েটারের পর্দায় শেষ পর্যন্ত আলো দেখতে পায় কি না, নাকি আদালতের নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালে আটকে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে ক্রাইম জেনারের সিনেমাপ্রেমীদের কাছে এই প্রজেক্টটি যে এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় কৌতূহলের বিষয়, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।



