প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিবাদ মঞ্চে অভিনেতা প্রকাশ রাজ

ছবি: আগামীর সময়
জাতীয় স্তরের বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে ওঠা অভিযোগের প্রতিবাদে ১৪ জুন বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে বিক্ষোভে সামিল হল ককরোচ জনতা পার্টি। প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেন অভিনেতা ও সমাজকর্মী প্রকাশ রাজ। এছাড়াও ছিলেন শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক এবং দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তোলেন এবং শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।
মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রকাশ রাজ বলেছেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম নিজেদের ভবিষ্যৎ ও স্বপ্ন রক্ষার লড়াইয়ে নেমেছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিজেদের দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘অবসরের বয়স পেরিয়েও আপনারা দেশ শাসন করছেন। এবার সরে দাঁড়ান। তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিন।’ তার বক্তব্যে উপস্থিত জনতার মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে।
প্রকাশ রাজ আরও বলেছেন, দেশের যুবসমাজ আর নীরব থাকবে না। শিক্ষাক্ষেত্রে অনিয়মের বিরুদ্ধে এবং জবাবদিহির দাবিতে তারা নিজেদের লড়াই নিজেরাই লড়বে। আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি আগে থেকেই সামাজিক মাধ্যমে বার্তা দিয়েছিলেন এবং বেঙ্গালুরুর কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
সোনম ওয়াংচুক তার বক্তব্যে বলেছেন, এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য কোনও রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল নয়। বরং এমন একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে তোলা, যেখানে মানুষ ভয় ছাড়াই নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারে। তিনি শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার এবং ছাত্রছাত্রীদের প্রতি দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বলেছেন, পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং মূল্যায়ন সংক্রান্ত অভিযোগের সঠিক তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তিনি দেশজুড়ে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
গত ৬ জুন দিল্লির যন্তর-মন্তরে প্রথম বড় জমায়েতের পর ১১ জুন পুনে, ১২ জুন লখনউ, ১৩ জুন অমৃতসর এবং ১৪ জুন বেঙ্গালুরুতে কর্মসূচি হয়েছে। আন্দোলনকারীরা আগামী ২০ জুন আবারও দিল্লির যন্তর-মন্তরে বৃহত্তর সমাবেশের ডাক দিয়েছেন।
এদিকে, বিক্ষোভে প্রকাশ রাজের উপস্থিতি আন্দোলনটিকে জাতীয় স্তরে আরও বেশি আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে বলে রাজনৈতিক মহলের মত।



