ক্যারিয়ার টিকিয়ে রাখতে আপস করেছিলেন কঙ্গনা

কঙ্গনা রানাউত
বলিউডের ‘কুইন’ কঙ্গনা রানাউত মানেই ঠোঁটকাটা স্বভাব আর স্পষ্ট কথা। তা সে রাজনীতি হোক কিংবা অভিনয়, নিজের স্ট্রাগল বা ক্যারিয়ারের ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে কথা বলতে কখনো দ্বিধাবোধ করেন না তিনি। আগামী ১২ জুন মুক্তি পেতে যাওয়া তার নতুন সিনেমা ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’-র প্রচারণায় এসে এবার বলিউডের চকমকি দুনিয়ার এক অন্ধকার অধ্যায় ও নিজের ক্যারিয়ারের করুণ লড়াইয়ের কথা ফাঁস করলেন এই বিজেপি সংসদ সদস্য।
২০০৮ সালে মধুর ভান্ডারকরের ‘ফ্যাশন’ সিনেমায় অভিনয় করে কঙ্গনা জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেই আকাশছোঁয়া সাফল্য বাস্তব জীবনে তার কোনো উপকারে আসেনি। কঙ্গনা জানান, ২০০৭ থেকে ২০০৮ সালের সেই সময়টাতে হাড়ভাঙা খাটুনি আর মেগা হিটের পরেও ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি হয়ে পড়েছিলেন ব্রাত্য। কেউ তাকে নতুন সিনেমায় কাস্ট করতে চাচ্ছিল না। কঙ্গনা বলেছেন, ‘যখন হাতে কাজ ছিল না, আমি নিজেকে প্রশ্ন করতাম কেন আমার সাথে এমন হচ্ছে? তখন বড় তারকাদের ম্যানেজারকে হায়ার করার পর আমাকে ‘ধামাল’ কিংবা ‘রাস্কেলস’-এর মতো কমার্শিয়াল ছবিতে কাজ করতে হয়েছিল। আমি খুব ভালো করেই জানতাম যে এই সিনেমাগুলো আমার মেধা ও বুদ্ধিমত্তার চেয়ে অনেক নিচু স্তরের। কিন্তু মুম্বাই শহরে টিকে থাকার জন্য তখন আমার কোনো চয়েস বা বিলাসিতা দেখানোর সুযোগ ছিল না।’
হিমাচল প্রদেশ থেকে আসা কঙ্গনা জানান, তিনি যখন বলিউডে আসেন তখন চারদিকে শুধুই ৬ ফুট লম্বা মিস ওয়ার্ল্ড, সুপারমডেল আর বিদেশী নায়িকাদের জয়জয়কার। তাদের ভিড়ে নিজেকে একদম সাদামাটা ও সাধারণ মনে হতো কঙ্গনার। কিন্তু পরবর্তীতে এই ‘সাধারণ’ লুক এবং অভিনয়ের অকৃত্রিম কাঁচা ধরণই কঙ্গনার সবচেয়ে বড় ইউএসপি হয়ে দাঁড়ায়। ‘কুইন’ কিংবা ‘তনু ওয়েডস মনু’র মতো ছবিতে একদম সাধারণ ঘরের মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেই কোটি দর্শকের মন জয় করেন তিনি।
পর্দায় বড় বড় ঐতিহাসিক চরিত্র বা ইন্দিরা গান্ধীর মতো হেভিওয়েট রোল করার পর, কঙ্গনা আবারও ফিরছেন সেই ‘সাধারণ মানুষের’ চরিত্রে। আগামী ১২ জুন থিয়েটারে রিলিজ হতে যাওয়া ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ সিনেমায় তাকে মুম্বাইয়ের কামা হাসপাতালের একজন অদম্য সাহসী নার্সের চরিত্রে দেখা যাবে। ২৬/১১-এর সেই ভয়াবহ জঙ্গি হামলার রাতে সন্ত্রাসীদের বুলেটের তোয়াক্কা না করে কীভাবে সাধারণ নার্স ও ওয়ার্ড বয়রা ৪০০ রোগীর জীবন বাঁচিয়েছিলেন, সেই রুদ্ধশ্বাস সত্য ঘটনা নিয়ে তৈরি হয়েছে এই ছবি।
কঙ্গনার মতে, গ্ল্যামার বা দেখনদারি ছাড়া যে সাধারণ মানুষগুলো নিজেদের কাজটা নিখুঁতভাবে করেন, তারাই আসলে ঈশ্বরের সবচেয়ে কাছাকাছি থাকা আসল দেশপ্রেমিক।








