‘ইথা’ দিয়ে কি জাতীয় পুরস্কারের দৌড়ে শ্রদ্ধা কাপুর?

শ্রদ্ধা কাপুর। ছবিঃ ইনস্টাগ্রাম
বলিউডে বাণিজ্যিক ব্লকবাস্টার ছবি ‘স্ত্রী ২’-এর রেকর্ড ব্রেকিং সাফল্যের পর শ্রদ্ধা কাপুর যে এবার নিজের অভিনয় প্রতিভাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাইছেন, তা ‘ইথা’-র প্রথম টিজারেই স্পষ্ট। ‘লুকা ছুপি’ এবং কৃতি স্যাননকে জাতীয় পুরস্কার এনে দেওয়া ‘মিমি’ খ্যাত পরিচালক লক্ষ্মণ উটেকার এবার হাত দিয়েছেন মারাঠি সংস্কৃতির অন্যতম আইকনিক ও ট্র্যাজিক এক রিয়েল-লাইফ লিগ্যাসির ওপর। ১৯৪০ থেকে ১৯৯০ সালের মহারাষ্ট্রের গ্রামীণ পটভূমি এবং লোকশিল্পীদের অবমাননার বিরুদ্ধে বিঠাবাইয়ের লড়াইয়ের এই গল্প বলিউডের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
টিজারের মূল আকর্ষণ যে দৃশ্যটি নিয়ে দর্শকেরা কথা বলছেন, তা ভারতীয় মঞ্চ ইতিহাসের একটি বাস্তব ও সত্য ঘটনা। বিঠাবাই যখন ৯ মাসের অন্তসত্ত্বা, তখন একটি শো চলাকালীন ভরা মঞ্চে তার প্রসববেদনা ওঠে। থিয়েটারের নিয়ম অনুযায়ী শো মাঝপথে বন্ধ হলে তা অমঙ্গল এবং দর্শকদের সাথে অন্যায়। তাই ব্যাকস্টেজে গিয়ে সন্তান জন্ম দিয়ে, কোনো মেডিকেল সাহায্য ছাড়াই সাধারণ একটি পাথর দিয়ে নাড়ি কেটে পেটে কাপড় বেঁধে তিনি আবার মঞ্চে এসে নাচ শুরু করেন। টিজারে শ্রদ্ধার চোখে জল এবং মুখে সেই যন্ত্রণার মাঝেও পেশাদারিত্বের যে এক্সপ্রেশন ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তা থিয়েটারের দর্শকদের স্তব্ধ করে দিয়েছে।
লক্ষ্মণ উটেকার তার ছবিতে কাস্টিংয়ের বিষয়ে সবসময়ই নিখুঁত। শ্রদ্ধার পাশাপাশি এই ছবিতে রণদীপ হুদা এবং থিয়েটার ব্যাকগ্রাউন্ডের তুখড় অভিনেতা মোহাম্মদ জিশান আইয়ুবের উপস্থিতি ছবিটির ব্যাকবোন বা মূল শক্তি। ১৯৪০-এর দশকের পিরিয়ড ড্রামা লুক তৈরি করতে শ্রদ্ধাকে খাঁটি মারাঠি ‘নৌভারি’ শাড়ি, নাকে ঐতিহ্যবাহী মারাঠি নথ এবং ভারী গহনায় সাজানো হয়েছে। তার লাবণী নাচের মুদ্রা এবং বডি ল্যাঙ্গুয়েজ শেখার জন্য তিনি বেশ কয়েক মাস কঠিন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
শ্রদ্ধা কাপুরকে এতদিন মূলত গ্ল্যামারাস এবং মিষ্টি মেয়ের চরিত্রেই দর্শক বেশি দেখেছেন। তবে ‘ইথা’-র মাধ্যমে তিনি দীপিকা বা আলিয়ার মতো তীব্র পারফরম্যান্স-ওরিয়েন্টেড বায়োপিকের লিগে ঢুকে পড়লেন। থিয়েটারে ‘ককটেল ২’ দেখতে যাওয়া দর্শকেরা মোবাইল স্ক্রিনে গোপনে রেকর্ড করা যে ফার্স্ট লুক শেয়ার করেছেন, তাতেই ইন্টারনেটে ট্রেন্ডিংয়ে চলে এসেছেন শ্রদ্ধা।
বাস্তব জীবনের বিঠাবাই নারায়ণগাঁওকরকে রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরি স্বর্ণপদক দিয়ে সম্মানিত করেছিলেন, অথচ জীবনের শেষ দিনগুলো তার চরম দারিদ্র্যের মধ্যে কেটেছিল। শিল্পের প্রতি এমন নিঃশর্ত ভালোবাসা এবং ট্র্যাজেডির গল্প বড় পর্দায় শ্রদ্ধা কাপুর কতখানি ফুটিয়ে তুলতে পারেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে প্রাথমিক হাইপ বলছে, ২৮ আগস্ট বক্স অফিসে আরেকটি ধামাকা অপেক্ষা করছে।





