রঘুবীরের লড়াই, ‘প্রধান জি’র উত্থান

‘প্রধান জি’র চরিত্রে রঘুবীর যাদব
ওটিটির পর্দায় ‘পঞ্চায়েত’ সিরিজের প্রধান জি যখন খাঁটি দেশি মেজাজে স্ক্রিনে আসেন, তখন দর্শক হেসে কুটিপাটি হন। কিন্তু এই হাসিমুখের আড়ালে যে কতটা অন্ধকার, ক্ষুধা আর অপমানের ইতিহাস লুকিয়ে আছে, তা আরও একবার মনে করিয়ে দিলেন ওটিটি দুনিয়ার অন্যতম স্তম্ভ ও বর্ষীয়ান অভিনেতা রঘুবীর যাদব। আজ বলিউডে স্টারকিডদের দাপটের যুগে রঘুবীর যাদবের এই লড়াই কোনো সিনেমার চিত্রনাট্যের চেয়ে কম রোমাঞ্চকর নয়।
পরীক্ষায় ফেল করার ভয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে অন্নু কাপুরের বাবার থিয়েটার কোম্পানিতে মাত্র আড়াই টাকা রোজের চাকরিতে ঢুকেছিলেন রঘুবীর। টাকার হিসাব আনা-পাইতে হতো তখন। বৃষ্টির দিনে যখন নাটক বন্ধ থাকত, মালিক তখন হাতে ধরিয়ে দিতেন মাত্র আট আনা। সেই আট আনা দিয়ে কেনা রুটি-চাটনি যখন গাছের ডালে লুকিয়ে রাখতেন, তখন স্থানীয় জুয়াড়িরা তা চুরি করে খেয়ে নিত। রঘুবীর যাদবের এই স্বীকারোক্তি, ‘আমরা সন্ধ্যায় না খেয়েই ক্ষুধার্ত পেটে ঘুমিয়ে পড়তাম’ আজ কোটি টাকার গ্ল্যামারাস বলিউডের পেছনের এক রূঢ় বাস্তবকে তুলে ধরে।
আত্মীয়দের অবহেলা আর কটাক্ষ সহ্য করতে না পেরে যে ছেলেটি দ্বিতীয়বার বাড়ি থেকে বের হয়েছিল, সে নিজের গ্রামে পা রেখেছিল দীর্ঘ ২০ বছর পর। তবে কোনো পরাজিত সৈনিক হিসেবে নয়, বরং ততদিনে তার ঝুলিতে এসে গেছে ভেনিস ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সেরা অভিনেতার খেতাব এবং ছবিটির নাম ছিল ‘ম্যাসি সাহেব’। আমির খানের অস্কার মনোনীত ছবি ‘লাগান’ থেকে শুরু করে ‘নিউটন’ বা ‘পিপলি লাইভ’— রঘুবীর যাদব যেখানেই হাত দিয়েছেন, সেখানেই সোনা ফলেছে।
গত ১২ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে তার নতুন সিনেমা ‘দ্য নর্মদা স্টোরি’। যেখানে মুকেশ তিওয়ারির সঙ্গে তার অভিনয় জুড়ি এরই মধ্যে প্রশংসিত হচ্ছে। তবে ওটিটি প্রেমীদের আসল নজর এখন বছরের শেষের দিকে আসতে যাওয়া ‘পঞ্চায়েত সিজন ৫’-এর দিকে। ফুলেরা গ্রামের সেই চিরচেনা রাজনীতি, প্রধান জির মিষ্টি কোঁদল আর জিতেন্দ্র কুমারের সঙ্গে তার অনবদ্য রসায়ন দেখতে দর্শক এখন থেকেই দিন গুনছেন।
দিনশেষে রঘুবীর যাদবের এই জীবনকাহিনি প্রমাণ করে একটি বিষয়, যদি ভেতরে প্রতিভা আর জেদ থাকে, তবে ফুটপাত বা বাসস্ট্যান্ডের রাতও এক সময় রাজপ্রাসাদের লাল গালিচায় রূপ নিতে পারে।



