শিল্পার সঙ্গে বিচ্ছেদের খবর শুনে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন রাজ

রাজ কুন্দ্রা ও শিল্পা শেঠি
শিল্পা শেঠি ও রাজ কুন্দ্রা বলিউড ও ব্যবসা জগতের অন্যতম একটি আলোচিত জুটি। ২০০৯ সালে জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের মাধ্যমে তাদের দাম্পত্য জীবন শুরু হয়। ভালোবাসা, গ্ল্যামার, ব্যবসায়িক সাফল্য এবং নানা আইনি জটিলতা— সব মিলিয়ে তাদের জীবন বেশ ঘটনাবহুল।
এবার জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার সময়ের স্মৃতিচারণ করলেন শিল্পা শেঠির স্বামী ও ব্যবসায়ী রাজ কুন্দ্রা। ২০২১ সালে পর্নোগ্রাফি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে মুম্বাইয়ের আর্থার রোড জেলে কাটানো ৬৩ দিনের বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ভাগ করেছেন তিনি।
জেলে থাকা অবস্থায় স্ত্রী শিল্পা শেঠির সঙ্গে বিচ্ছেদের ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়লে তিনি এতটা ভেঙে পড়েছিলেন যে একপর্যায়ে নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার চিন্তাও করেছিলেন— সেই বিস্ফোরক তথ্য এবার সামনে আনলেন রাজ।
এবিপি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাজ কুন্দ্রা জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ স্টেশনে ডেকে নিয়ে তাকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তিনি বলেছেন, ‘আমাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল, আমি সোজা চলে যাই। স্টেশনে বসেই সামাজিক মাধ্যম এক্সের একটি পোস্টে জানতে পারি আমি নাকি গ্রেপ্তার হয়েছি! পুলিশ অফিসারকে জিজ্ঞাসা করতেই তিনি আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আমি একদিন আইপিএল দলের মালিক ছিলাম, আর পরদিনই ঠাঁই হলো বন্দিশালায়।’
জেলে কাটানো কঠিন সময়ের কথা জানিয়ে রাজ জানিয়েছেন, সেখানে বন্দিদের জন্য দেওয়া খাবার মুখে তোলার মতো ছিল না। বড় পাত্রে রান্না করা সেই খাবার কীসের তা চেনাই যেত না! ফলে ৬৩ দিন শুধু বিস্কুট আর পানি খেয়েই কোনোমতে বেঁচে ছিলেন তিনি।
তবে শারীরিক কষ্টের চেয়েও বড় আঘাত এসেছিল মিডিয়ার একটি ভুয়া খবরের মাধ্যমে। রাজ বলেছেন, ‘কারাগারে থাকা অবস্থায় একদিন খবর পেলাম, শিল্পা নাকি আমাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে এবং আমাদের ডিভোর্স হতে যাচ্ছে। সেই রাতে আমি আর ঘুমাতে পারিনি। মনে হচ্ছিল জীবনটাই শেষ করে দিই! কারণ আমার স্ত্রী ও পরিবার ছাড়া আমার জীবনের কোনো মূল্য নেই। মানসিকভাবে একেবারেই ভেঙে পড়েছিলাম।’
তবে পরদিনই পরিস্থিতি বদলে যায় বলে জানান রাজ। শিল্পার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার পর নিজের ভুল বুঝতে পারেন তিনি।
শিল্পার শক্ত অবস্থানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেছেন, ‘ফোন করে শিল্পা আমাকে বলল, ‘এসব একদম বানোয়াট খবর। আমি তোমার সঙ্গে আছি, আমি তোমাকে বিশ্বাস করি। এসব নিয়ে একদম ভাববে না।’ শিল্পার ওই একটা কথাই আমাকে নতুন করে বেঁচে থাকার সাহস জুগিয়েছিল। মনে হয়েছিল পুরো পৃথিবী একদিকে, আর আমার স্ত্রী আমার পাশে থাকলে আমি যেকোনো লড়াই জিততে পারব।’ দীর্ঘ দুই মাস কারাবাসের পর জামিনে মুক্তি পান রাজ কুন্দ্রা।







