জবিতে দখল-সন্ত্রাসের ছাত্র রাজনীতি চলবে না: ছাত্রদল সভাপতি

ছবি: আগামীর সময়
দেশের কোনো ক্যাম্পাসে আর সন্ত্রাসী ছাত্র রাজনীতি চলবে না বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি বলেছেন, ছাত্র রাজনীতির কারণে আর শিক্ষার্থীর জীবন ধ্বংস হবে না। কাউকে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য করা হবে না।
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ছাত্রদল, জবি শাখার উদ্যোগে আয়োজিত নবীরবরণ অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রাকিব বলেন, ‘ছাত্র রাজনীতি কোনোভাবেই সাধারণ শিক্ষার্থীকে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে বাধ্য করবে না। দখলের রাজনীতি, রুম দখলের রাজনীতি এই বাংলাদেশে আর হবে না।’
ছাত্রদলের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গত কয়েক বছর ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ করছেন। এ সময় অনেক নেতাকর্মী গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং অনেকে শিক্ষাজীবন শেষ করতে পারেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ছাত্রদল সভাপতি বলেন, ‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে এই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কী অনন্য অবদান ছিল, তা তোমাদের ধারণ করতে হবে।’
নবীনদের পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার গঠনে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাকিব বলেন, লাখ লাখ শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। তাই সময় অপচয় না করে প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগাতে হবে। শুধু বিসিএস বা সরকারি চাকরিকে ক্যারিয়ারের একমাত্র লক্ষ্য না ধরে বেসরকারি খাত, আইটি ও গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার আদর্শ উজ্জীবিত হলে তারা ছাত্রদলের পতাকাতলে আসতে পারে। তবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে ক্লাস ফাঁকি দেওয়া বা পড়াশোনার ক্ষতি করা যাবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. রইছ উদ্দীন, ট্রেজারার ড. সাবিনা শরমীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো. মোফাজ্জল হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ড. শামীমা সুলতানা।




