বিরোধীদলীয় হুইপ
জামায়াত নারীদের জন্য ‘নিরাপদ ঠিকানা’

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ছবি : আগামীর সময়
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান অভিযোগ করে বলেছেন, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জামায়াতকে নির্বাচনে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। যার মাধ্যমে জামায়াতকে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হয়নি।’
তিনি দাবি করেন, ‘বাংলাদেশের তরুণ ও নারী ভোটারদের বড় অংশ জামায়াতকে সমর্থন করেছেন। নারীদের জন্য দলটি নিরাপদ ঠিকানা।’
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ছাত্রশিবির আয়োজিত নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বললেন, ‘মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছিল রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করবেন, কিন্তু বাস্তবে সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ ও সরকারি কর্মকমিশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোকদের বসানো হয়েছে।’
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি জানালেন, ‘৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু তারা সেই রায় মানে না। এখন তারা বলছে, নির্বাচন আদায়ের জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলেছিলাম। গণভোট দেওয়া তাদের পরিকল্পনায় ছিল না।’
গণভোটের উদ্দেশ্য ছিল প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা এবং ভবিষ্যতে যেন কেউ স্বৈরাচার হয়ে উঠতে না পারে, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। গণভোটের রায় না মানা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গুম ও খুনের রাজনীতি ফিরিয়ে আনার অভিযোগ তুলে বিরোধীদলীয় হুইপ বললেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, যার মধ্যে ২০টি বাতিল করা হয়েছে।’
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এর একটি ছিল গুম ও খুন কমিশনসংক্রান্ত অধ্যাদেশ। আইন পরিবর্তন করে এমন ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে পুলিশই তদন্ত করবে, আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে অভিযোগকারীকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে। এতে মানুষ অভিযোগ করতেই ভয় পাবে এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে আবার স্বৈরশাসনের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি বড় অংশ শুধু রাজনীতি নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ, কাউন্সেলিং বা ক্যারিয়ার গঠনের বিষয়ে তাদের খুব একটা ভাবতে দেখা যায় না।’
তিনি আরও বললেন, ‘আজকে ভিসি ও প্রো-ভিসি স্যারদের থাকার কথা ছিল। আমরা যে বিশ্ববিদ্যালয়েই শিবিরের নবীনবরণ অনুষ্ঠানের তারিখ ঘোষণা দিই, সেদিনই তাদের ঢাকায় কর্মসূচি থাকে।’
পিএসসির ভাইভা পদ্ধতির সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে লিখিত পরীক্ষায় কম নম্বর পাওয়া প্রার্থীকেও ভাইভায় উচ্চ নম্বর দিয়ে প্রশাসন বা পুলিশ ক্যাডারে নেওয়া হয়েছে, আবার লিখিতে ভালো করা অনেককে ভাইভায় বাদ দেওয়া হয়েছে। পিএসসির সব পরীক্ষায় ভাইভায় ৫০ নম্বরের বেশি রাখা যাবে না এবং পিএসসির গঠনমূলক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করতে হবে।’
এ সময় প্রধান আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান সম্পাদক মু. মাহমুদুল হসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও চাপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল।




