জবিতে সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি স্মারকলিপি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনায় দোষীদের বিচারের দাবিতে পাল্টাপাল্টি স্মারকলিপি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
আজ সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের কাছে পৃথক স্মারকলিপি দেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও ‘সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ’-এর ব্যানারে জড়ো হওয়া শিক্ষার্থীরা। এ সময় উভয় পক্ষই ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেন।
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, সাম্প্রতিক হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তি এবং ক্যাম্পাসে নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবিতে চার দফা দাবি জানান।
স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করেন, গত ৮ আগস্ট ক্যাম্পাসে সংঘটিত একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও সহিংস ঘটনায় ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. নোমান উদ্দীন গুরুতর আহত হন। তাদের অভিযোগ, ঘটনার পরদিনও হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে স্থায়ী বহিষ্কার ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া; ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায়ে প্রক্টরের পদত্যাগ; আহত শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ চিকিৎসা ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বহন এবং নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
অন্যদিকে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ’-এর ব্যানারে আরেকটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এতে গত ৪ আগস্টের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত করার দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, প্রক্টরকে শারীরিকভাবে হেনস্তার ঘটনায় জড়িত জকসুর ভিপি, জিএস, এজিএসসহ সংশ্লিষ্টদের স্থায়ী বহিষ্কার করতে হবে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে মব, হামলা ও বিশৃঙ্খলা বন্ধ করে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া জকসুর ব্যানার কোনো রাজনৈতিক বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার বন্ধ করার দাবি জানিয়ে তারা বলেছেন, দাবি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট জকসু নেতাদের ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করতে হবে।
এ বিষয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা বললেন, তাদের দাবিগুলো কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট নয়; বরং সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, নির্বিঘ্ন শিক্ষা কার্যক্রম এবং ক্যাম্পাসে স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তারা দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।




