জবি প্রশাসনের কাছে জকসুর অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর ও ৯ দফা দাবিতে স্মারকলিপি

জবি প্রশাসনের কাছে অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর করছে জকসু নেতারা— সংগৃহীত
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য প্রশাসনের কাছে একটি অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর করেছে। একই সঙ্গে সম্প্রতি জকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধি ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একটি স্মারকলিপিও প্রদান করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ভবনের সামনে অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপাচার্য অধ্যাপক রইছ উদ্দিনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন জকসুর প্রতিনিধিরা। এ সময় গত মঙ্গলবারের ঘটনার সার্বিক বিষয় উপাচার্যকে অবহিত করে ৯ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।
১. শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়া এবং ছাত্রদলকে নির্দেশ দিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগে জকসুর নেতৃবৃন্দ, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি, ছাত্রফ্রন্ট, ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের আহত করার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। একই সঙ্গে তদন্তের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
২. হামলায় জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তি— সে শিক্ষার্থী হোক বা বহিরাগত, চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হলে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে স্থায়ী বহিষ্কার নিশ্চিত করতে হবে।
৩. ক্যাম্পাস, ক্যাম্পাসের বাইরে এবং হাসপাতালে সংঘটিত হামলার ঘটনায় জড়িত বহিরাগতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অবিলম্বে ফৌজদারি মামলা দায়ের করতে হবে এবং তদন্তের অগ্রগতি প্রকাশ করতে হবে।
৪. বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগত ও অছাত্রদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য স্থায়ী নিরাপত্তা নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
৫. ঘটনার সম্পূর্ণ ও অবিকৃত সিসিটিভি ফুটেজ জকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। একই সঙ্গে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও সময়সীমাবদ্ধ তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে। বর্তমানে গঠিত তদন্ত কমিটিকে তারা নিরপেক্ষ মনে করেন না; তাই বিচার বিভাগীয় তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন।
৬. হামলায় আহত সব শিক্ষার্থীর চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করতে হবে এবং তাদের প্রয়োজনীয় একাডেমিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
৭. ক্যাম্পাসে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কেউ কোনোভাবে অনিরাপদ হলে এর দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিতে হবে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের বাইরে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
৮. জকসুর জিএস আবদুল আলীম আরিফসহ প্রায় ৫০ জনের বেশি নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা তাঁদের দেখতে যাননি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে।
৯. অছাত্রদের অসুস্থ রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
স্মারকলিপি গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রইছ উদ্দিন বলেছেন, ‘আজ আমার কাছে তিনটি সংগঠন স্মারকলিপি দিয়েছে। আমি সবাইকে স্বাগত জানিয়েছি। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে সবাইকে সর্বোচ্চ সহনশীলতা, ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছি।’
জকসুর ভিপি রিয়াজুর ইসলাম বললেন, ‘নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে আজ আমরা শিক্ষার্থী ভাই-বোনদের জন্য প্রশাসনের কাছে একটি অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর করেছি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মাত্র অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে সেবা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই আমরা নির্বাচনের আগেই এ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। একই সঙ্গে গত মঙ্গলবার আমাদের ওপর চালানো হামলার বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্যাম্পাসের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।’
উল্লেখ্য, অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার, পরিবহন প্রশাসক, ছাত্রকল্যাণ পরিচালকসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





