ফেল করেও এক মাসের মধ্যে পরীক্ষা দিতে পারবেন ৪ লাখ শিক্ষার্থী

সংগৃহীত ছবি
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও চলতি শিক্ষাবর্ষেই আবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন প্রায় ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী। এসব শিক্ষার্থীর পরীক্ষা এক মাসের মধ্যে আয়োজনের পরিকল্পনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন থেকে যেন আরও একটি বছর হারিয়ে না যায়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ পরিকল্পনা করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন। অন্যদিকে, দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন। সব মিলিয়ে এক ও দুই বিষয়ে অকৃতকার্য ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবারের পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন ইংরেজি বিষয়ে। এ বিষয়ে ফেল করেছেন ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন, যা মোট অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর প্রায় ৪১ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি)। এ বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন, যা মোট অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর প্রায় ২৩ দশমিক ২৯ শতাংশ।
অর্থাৎ ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি—এই দুই বিষয়ে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নিতে হতে পারে। বিষয় দুটিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় পুনরায় পরীক্ষা আয়োজনেও এ দুটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা এক মাসের মধ্যে আয়োজন করা হবে। সাত কিংবা ১৫ দিনের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হলেও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। আবার পরীক্ষা বেশি পিছিয়ে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ভর্তি কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে এক মাসের বেশি সময় না দিয়ে পরীক্ষার সময় নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এইচএসসি পরীক্ষায় সব বিভাগ মিলিয়ে মোট বিষয় রয়েছে ৫৩টি। তবে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী পুনরায় পরীক্ষার জন্য প্রায় ৩০টি বিষয়ের প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করতে হবে। এতে পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি ও সময় নির্ধারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা বোর্ডগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, ‘যারা এক ও দুই বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের পরীক্ষা আমরা এক মাসের মধ্যে নিয়ে নেব। তাহলে যেন তাদের আগামী দিনে আর একটি বছর নষ্ট না হয়। এটি হচ্ছে আমাদের পরবর্তী পরিকল্পনা।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী চান, যে যা করেছে তার সঠিকভাবে মূল্যায়িত হওয়া। কাউকে যেন অবমূল্যায়িত করা না হয়। স্বচ্ছ ফল আমাদের দিতে হবে।’
এবারের ফলাফলে শিক্ষার্থীদের শেখার ক্ষেত্রে ঘাটতি দেখা গেছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এটি একটি বাস্তব চিত্র। এসব ঘাটতি কীভাবে পূরণ করা যায়, সে জন্য মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ড কাজ করবে। অভিভাবক ও শিক্ষকদেরও এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে হবে।




