চীনের তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ইউজিসির সমঝোতা
- মাস্টার্স ও পিএইচডিতে সুযোগ পাবেন ১০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, শিক্ষক উন্নয়ন, বৃত্তি, একাডেমিক বিনিময় ও স্নাতকোত্তর শিক্ষায় সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং চীনের Tianjin University–এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। এ সমঝোতার আওতায় আগামী কয়েক বছরে প্রায় ১০০ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়টিতে মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে ভর্তির সুযোগ পাবেন।
রবিবার চীনের তিয়ানজিন শহরে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সফরকালে সমঝোতা স্মারকটি সই হয়। ইউজিসির পক্ষ থেকে এতে অংশ নেন কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ। তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে সই করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক মিং দং। এ সময় ইউজিসির পরিচালক ড. সুলতান মাহমুদ ভূঁইয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়টির স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনের ডিন অধ্যাপক লিকিয়াং উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতের সাম্প্রতিক সময়ের অগ্রগতি তুলে ধরে বলেছেন, উচ্চশিক্ষার বিস্তার, গবেষণাসক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে কার্যকর অংশীদারত্ব জরুরি। তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত সহযোগিতা বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি ইউজিসি ও তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ অর্থায়নে মাস্টার্স ও ডক্টর অব ফিলোসফি (পিএইচডি) পর্যায়ে যৌথ কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব দেন। তার মতে, প্রকৌশল, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, মানবিক ও অন্যান্য অগ্রাধিকারভিত্তিক বিষয়ে বাংলাদেশের শিক্ষক ও গবেষকদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষক উন্নয়ন, গবেষণাদক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক একাডেমিক নেটওয়ার্ক গঠনে সহায়ক হবে।
চীনা ভাষা শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরে ইউজিসি চেয়ারম্যান বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট ও কনফুসিয়াস ক্লাসরুম প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন। তিনি জানান, দুই দেশের সাম্প্রতিক সময়ে দ্বিপক্ষীয় বোঝাপড়ার আলোকে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি ভাষা হিসেবে চীনা ভাষা শিক্ষার পরিসর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেছেন, দেশের প্রায় ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা ভাষা শিক্ষা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে দক্ষ শিক্ষক, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন এবং একাডেমিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে ইউজিসি। তার মতে, চীনা ভাষা শিক্ষার বিস্তার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, কর্মসংস্থান ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
বৈঠকে বাংলাদেশে যৌথ গবেষণাগার স্থাপনেরও প্রস্তাব দেন ইউজিসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেছেন, দুই পক্ষের যৌথ উদ্যোগে গবেষণাগার প্রতিষ্ঠিত হলে গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং সক্ষমতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়বে। এতে দেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণার পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে।
তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক মিং দং বাংলাদেশের সঙ্গে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে বিশ্ববিদ্যালয়টির আগ্রহের কথা জানান। বৈঠকে স্নাতকোত্তর শিক্ষা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময়, যৌথ গবেষণা, একাডেমিক গতিশীলতা (মোবিলিটি) এবং প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
অধ্যাপক লিকিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক সাফল্য, আন্তর্জাতিক কার্যক্রম ও বৈশ্বিক অংশীদারত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় ৭০ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছেন। ভবিষ্যতে আরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে স্বাগত জানাতে বিশ্ববিদ্যালয়টি আগ্রহী।
সমঝোতা স্মারকে স্নাতকোত্তর শিক্ষা, যৌথ গবেষণা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময়, যৌথ গবেষণাগার স্থাপন, চীনা ভাষা শিক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার জন্য একটি বিস্তৃত কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, এ অংশীদারত্ব বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন, গবেষণার উৎকর্ষ ও উদ্ভাবন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইউজিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার সাম্প্রতিক সময়ে চীন সফরের পর এই উচ্চপর্যায়ের সফর ও সমঝোতা স্মারক সই দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং মানুষে মানুষে যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
সফর শেষে ইউজিসি ও তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। উভয়পক্ষের আশা, এ কৌশলগত অংশীদারত্ব বাংলাদেশ ও চীনের উচ্চশিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার অগ্রগতিতে অর্থবহ অবদান রাখবে।




