শিক্ষক দিবসে প্রিয় শিক্ষিকার স্মৃতিচারণ

সংগৃহীত ছবি
বিশ্ব শিক্ষক দিবস এলে পুরোনো স্মৃতির পাতায় ফিরে তাকালে জীবনের পথে পাওয়া অসংখ্য শিক্ষকের কথা মনে পড়ে। তাদের কেউ শুধু পাঠদানেই সীমাবদ্ধ থাকেন না, বরং শিক্ষার্থীর জীবন ও চিন্তাভাবনায় গভীর প্রভাব রেখে যান। হাইস্কুল জীবনে তেমনই একজন প্রিয় শিক্ষিকা ছিলেন মোসা. সালমা খানম ম্যাম।
ম্যামের কাছে শিক্ষা কখনোই শুধু পাঠ্যবই কিংবা শ্রেণিকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। স্কুলের বাইরেও তার কাছে দীর্ঘ সময় পড়াশোনা করার সুযোগ হয়েছে। পড়ালেখার পাশাপাশি তিনি জীবন, মানুষ ও সম্পর্ককে বোঝার নানা দিক খুব সহজভাবে শেখাতেন। মানুষকে চেনা, সম্পর্কের প্রতি সম্মান দেখানো এবং প্রিয়জনকে আগলে রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা তার কাছ থেকেই পেয়েছি।
এমনকি সবচেয়ে কাছের বান্ধবীর সঙ্গে বন্ধুত্বের বন্ধন কতটা মূল্যবান, সেটিও ম্যামই প্রথম উপলব্ধি করিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই বন্ধুত্ব অটুট থাকার পেছনে তার ভূমিকা আজও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি।
ম্যামের প্রতি শিক্ষার্থীদের ভালোবাসার একটি স্মৃতিও আজও মনে আছে। তিনি যখন ডে শিফট থেকে মর্নিং শিফটে বদলি হন, তখন তার কাছাকাছি থাকার জন্য আমি ও আরও দুই বান্ধবী মর্নিং শিফটে চলে যাই।
পড়াশোনার বাইরেও ম্যামের সঙ্গে আমাদের অসংখ্য আনন্দঘন স্মৃতি রয়েছে। কয়েকজন বান্ধবী মিলে বহুবার তার বাসায় গিয়েছি, একসঙ্গে সময় কাটিয়েছি। সেই দিনগুলোর স্মৃতি আজও মনে দাগ কেটে আছে।
তবে ম্যামের কাছ থেকে পাওয়া সবচেয়ে বড় শিক্ষা এসেছে তার নিজের জীবন থেকে। নানা প্রতিকূলতা ও বাধার মধ্যেও তিনি কখনো থেমে যাননি। অদম্য চেষ্টা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলাম শিক্ষা, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এড ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
শুধু নিজের শিক্ষাজীবনেই নয়, সন্তানকেও তিনি সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়েছেন। তার মেয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান। বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।
ম্যামের জীবন থেকে সবচেয়ে বড় যে বার্তাটি পেয়েছি, তা হলো, পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, সত্য ও সততার পথ থেকে সরে যাওয়া যাবে না। জীবনের গতি থামিয়ে দেওয়া যাবে না।
বর্তমানে আমি পাইওনিয়ার ডেন্টাল কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। ক্যারিয়ার হিসেবে চিকিৎসাক্ষেত্রকে বেছে নেওয়ার পেছনেও ম্যামের অনুপ্রেরণা ও অবদান রয়েছে।
বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ফিরে তাকালে মনে হয়, সালমা খানম ম্যাম শুধু একজন শিক্ষিকা ছিলেন না, তিনি ছিলেন জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেওয়া একজন পরম অভিভাবক। তার দেওয়া শিক্ষা ও পরামর্শ আজও জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে পথ দেখায়।
বিশ্ব শিক্ষক দিবসে প্রিয় সালমা খানম ম্যামসহ পৃথিবীর সব শিক্ষকের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও চিরন্তন কৃতজ্ঞতা।



