পাবিপ্রবির হল ডাইনিংয়ে আস্থা হারাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা

ছবি: আগামীর সময়
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) চারটি আবাসিক হলে ডাইনিং ব্যবস্থা চালু থাকলেও খাবারের মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। ফলে হলের ডাইনিংয়ের পরিবর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের নানা-নানির দোকান, কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়াসহ আশপাশের বিভিন্ন দোকানে খাবার খাচ্ছেন অধিকাংশ আবাসিক শিক্ষার্থী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি আবাসিক হলে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। এর মধ্যে স্বাধীনতা হল ও জুলাই-৬ হলে আবাসিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৪৫০ জন এবং মাতৃভাষা ও গণতন্ত্র হলে প্রায় ১ হাজার ২৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। তবে এসব হলে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ৬০-৭০টি করে মিল চলছে বলে জানা গেছে।
আবাসিক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের ডাইনিংয়ের খাবারের মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে তারা সন্তুষ্ট নন। অনেক সময় খাবারের মধ্যে পোকামাকড়, মাকড়সা, প্লাস্টিকের মাজনিসহ বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত বস্তু পাওয়া যায়। এতে খাবারের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন তারা। ফলে অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে বাইরে খাবার খাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার নিয়মবহির্ভূতভাবে হিটার ব্যবহার করে নিজ কক্ষে রান্না করছেন।
এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা হল, জুলাই-৬ হল এবং নারী শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলের খাবারের মান ও ডাইনিং ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তবে এসব সংবাদ প্রকাশের পরও কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
গত মাসের ৪ তারিখে স্বাধীনতা হলের ডাইনিংয়ে রোটেশন পদ্ধতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলেও বর্তমানে সেই পদ্ধতিও কার্যকরভাবে হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে খাবারের মান নিয়েও শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ রয়েছে।
জুলাই-৬ হলের ডাইনিং নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। শিক্ষার্থীদের দাবি, বিভিন্ন সময় খাবারের মধ্যে মাকড়সা ও পোকামাকড় পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ডাইনিং পরিচালনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি কুকুরকে ডাইনিংয়ের খাবারের প্লেট চাটতে দেখা যাওয়ার ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।
মাতৃভাষা ও গণতন্ত্র হলের ডাইনিংয়েও খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, খাবারের মান প্রত্যাশিত না হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী ডাইনিংয়ের পরিবর্তে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া কিংবা বাইরের বিভিন্ন দোকানে খাবার খাচ্ছেন।।
স্বাধীনতা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মারুফ খান বলেন, 'হলের খাবারের মান উন্নত করা দরকার। প্রায় ৪৮০ জন আবাসিক শিক্ষার্থী থাকলেও অধিকাংশই হলের ডাইনিংয়ের পরিবর্তে বাইরের দোকান কিংবা ক্যাফেটেরিয়ায় খাবার খাচ্ছে। এ বিষয়ে হলের প্রভোস্টের নজর দেওয়া উচিত।'
গণতন্ত্র হলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, 'আমাদের হলের খাবারের মান নিয়ে বারবার প্রশ্ন তোলা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। গত মাসে হলে একটি দোকানের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। খাবারের মান ও দামের বিবেচনায় হলের ডাইনিংয়ের চেয়ে ক্যাফেটেরিয়া ও বাইরের দোকানের খাবার আমাদের কাছে ভালো মনে হয়। তাই আমরা বাইরে খাচ্ছি।'
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের ব্যবসায়ী নানা জানান, তার দোকানে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ শিক্ষার্থী খাবার খান। বিভিন্ন ধরনের খাবার থাকায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী খাবার খেতে পারেন।
তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থী আবার ১০ টাকার ডাল কিনে নিয়ে কক্ষে ভাত রান্না করে খান। এতে তারা নিজেদের পছন্দমতো খাবার খেতে পারেন এবং তৃপ্তিও পান।
স্বাধীনতা হলের ডাইনিং এ কর্মরত এক ব্যাক্তি নাম প্রকাশ না করে বলেন, 'আগে ডাইনিং এর রোটেশন পদ্ধতি ছিল তখন কয়েকদিন পর পর দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হতো শিক্ষার্থীদের মাঝে। তখন আমরা দিনে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টুকেন বিক্রি করেছি কিন্তু বর্তমানে ৬০ থেকে ৬৫ টি টোকেন বিক্রি হয় এবং অতিরিক্ত ৫০ থেকে ৬০ টি মিল চলে। রোটেশন পদ্ধতি আবার চালু হলে এবং খাবারে ভেরিয়েশন আনলে ডাইনিং গুলো আবার আগের মতো ভালো চলবে।'
আরেক ব্যবসায়ী নানী বলেন, 'ছেলে-মেয়ে উভয় শিক্ষার্থীই প্রতিদিন আমার দোকানে আসে। হলের ডাইনিংয়ের খাবারের মান হয়তো ভালো না, তাই অনেক শিক্ষার্থী বাইরে খায়। আবার নারী শিক্ষার্থীসহ যারা কক্ষে রান্না করেন, তারা কম দামে আমাদের কাছ থেকে তরকারি নিয়ে যান এবং পরে কক্ষে ভাত রান্না করে খান।'
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আবাসিক হলের ডাইনিং ব্যবস্থা চালু থাকার পরও যদি শিক্ষার্থীরা নিয়মিতভাবে বাইরে খাবার খেতে বাধ্য হন, তাহলে ডাইনিং ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে ভাবা প্রয়োজন। তাদের প্রত্যাশা, প্রশাসন নিয়মিত খাবারের মান তদারকি, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত এবং ডাইনিং ব্যবস্থাপনায় কার্যকর নজরদারি বাড়াবে।



