শিক্ষক নিয়োগ
ম্যানেজিং কমিটির ক্ষমতা ফেরানোর প্রস্তাব সমালোচনা ক্ষোভ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
২০১৫ সালের ডিসেম্বর থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে মেধার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করতে শুরু করে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। আর এর সঙ্গেই শেষ হয়ে যায় নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির ‘দৌরাত্ম্য’। প্রায় সাড়ে ১১ বছর পর হঠাৎ খবর এলো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ফিরছে ম্যানেজিং কমিটির কাছে। ‘বাতাসের বেগে’ ছড়িয়ে পড়া এই খবরের সূত্রপাত গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠক থেকে। যেখানে এনটিআরসিএ-এর কার্যক্রম পর্যালোচনা হয়। উঠে আসে সরাসরি নিয়োগ সুপারিশ শুরু করার পর এনটিআরসিএর নানা আইনি জটিলতার কথা। তাই আগের মতো সংস্থাটিকে শুধু ‘নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন’ কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজ নিজ ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে বাছাই ও নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্নের বিষয়ে আলোচনা হয়। গতকাল সোমবার ওই বৈঠকের প্রস্তাবের বিষয়টি প্রকাশ হয়, যা দিয়ে দিনভর চলে আলোচনা-সমালোচনা, ক্ষোভ-বিক্ষোভ। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাতে বিশেষ বার্তা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। যেখানে বলা হয়, এটি শুধু প্রস্তাব। কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। মন্ত্রণালয় জানায়, এনটিআরসিএর কার্যক্রম ও শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কীভাবে আরও স্বচ্ছ, দক্ষ ও সুন্দর করা যায়— সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনা ও আলোচনা হচ্ছে। ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি সরাসরি শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারবে, এমন চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এর আগে বেসরকারি স্কুল-কলেজে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএর হাত থেকে আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবসংক্রান্ত খবর ছড়িয়ে পড়ায় পর প্রতিবাদে নামে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন। ডাকসুসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনও বিক্ষোভ করে।
রাতেই এ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কাছে। আগামীর সময়কে তিনি বললেন, ‘এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ২০০৫ সালে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে প্রতিষ্ঠিত এনটিআরসিএ কার্যক্রম ও শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, দক্ষ ও সুন্দরভাবে কীভাবে পরিচালনা করা যায়— সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পর্যালোচনা অব্যাহত রেখেছে। ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগ প্রদানসংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’ এ বিষয়ে কোনো অপতথ্য প্রচার না করতেও সবার প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
সভার কার্যবিবরণীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ হবে। এনটিআরসিএ আর নিয়োগ সুপারিশ করবে না। এজন্য প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন করা হবে। এ খবর জানাজানি হতেই ডাকসু, জাতীয় ছাত্রশক্তি, বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষসহ শিক্ষক সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিঙ্ক (ইউটিএল) এর প্রতিবাদ জানায়। সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিলও করেন। দিনভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও খাতসংশ্লিষ্টরা ছিলেন সরব।




