এইচএসসি ও সমমান
চট্টগ্রাম বোর্ডের তত্ত্বীয় পরীক্ষা বাকি, নভেম্বরে একসঙ্গে ফল

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বৈরী ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় চলতি বছর ভোগান্তিতে পড়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বোর্ডের শিক্ষার্থীরা ভারী বর্ষণ ও বন্যায় ভোগান্তিতে পড়ে। এ নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনা ও সমালোচনার মুখে স্থগিত রাখা হয় বোর্ডটির পরীক্ষা। শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা বাদ রেখেই শেষ হলো এইচএসসি ও সমমানের তত্ত্বীয় পরীক্ষা।
বন্যার কারণে স্থগিত থাকায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষা আগামী ৯ সেপ্টেম্বর শেষ হবে। এ বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙামাটি ও কক্সবাজার জেলার পরীক্ষা ৮ জুলাই থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত ছিল। তাই আগামী নভেম্বর মাসের শুরুর দিকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে শিক্ষা বোর্ডগুলোর মোর্চা আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।
আজ শনিবার সকালে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসির ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা দ্বিতীয় পত্র, শিশু বিকাশ দ্বিতীয় পত্র এবং বিকালে সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, সমাজকর্ম দ্বিতীয় পত্র এবং ক্রীড়া দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা হয়েছে। একই দিনে হয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন আলিমের উচ্চতর গণিত দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা। অপরদিকে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ভোকেশনাল ও বিএমটির তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হয়েছে আগেই।
চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয় ২ জুলাই। পরীক্ষা দিতে ফরম পূরণ করেছে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ শিক্ষার্থী। এবার সব শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষা হয়েছে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে।
তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে ফল প্রকশের যে রেওয়াজ আছে, তা মেনেই ফল প্রকাশ করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।
শনিবার তিনি গণমাধ্যমকে বলেছেন, চট্টগ্রাম বোর্ডের তত্ত্বীয় পরীক্ষা আগামী ৯ সেপ্টেম্বর শেষ হবে। যেহেতু সারা দেশের ফল একসঙ্গে প্রকাশিত হবে, তাই ওই দিন থেকে ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে ফল প্রকাশের লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করব। সে হিসাবে নভেম্বরের প্রথমার্ধে ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।
পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্নে ভুল, রসায়নের প্রশ্নে অসংগতি, কয়েকটি কেন্দ্রে ভুল পাঠ্যসূচির প্রশ্ন বিতরণের ঘটনা এবং নিয়ম না মেনে খাতা মূল্যায়ন- সব মিলিয়ে এবারের পরীক্ষা ঘিরে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এর বাইরে অতিবৃষ্টির মধ্যে পরীক্ষা আয়োজনও সমালোচিত হয়েছে ব্যাপকভাবে।
পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল থাকা, রসায়ন প্রথম পত্রে বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণের প্রশ্ন ভিন্ন হওয়া এবং জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রে ইংরেজি সংস্করণের তিনটি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নে ভুল থাকা নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হলে বোর্ডগুলো মূল্যায়ন নীতিমালায় ছাড় ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়।
এ ছাড়া প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে মনোবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রে ২০২৬ সালের বদলে ২০২৫ সালের প্রশ্ন সরবরাহ, মতিঝিলে মনোবিজ্ঞানে ভুল সেটের প্রশ্ন বিতরণ, সাতক্ষীরায় ভূগোলের প্রথম পত্রের দিনে দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন বিতরণ এবং সরকারি আহম্মদ মাহমুদ কলেজে বাংলা দ্বিতীয় পত্রে নিয়মিতদের অনিয়মিতদের প্রশ্ন দেওয়ার মতো গুরুতর ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি বিএমটি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে শিক্ষার্থীদের দিয়ে এমসিকিউ উত্তরপত্র ভরাট করানোর অভিযোগে এক প্রভাষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হওয়ামাত্র শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। নির্দেশনার পর পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে অবহেলার অভিযোগে ৩ আগস্ট তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।






