ঢাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে পুরনো চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে নতুন তদন্ত কমিটি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) অধ্যাপক ড. মো. রিদওয়ানুল হকের বিরুদ্ধে পুরনো চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ পুনরায় তদন্তে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিশেষজ্ঞের মতামতের ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার আইন অনুষদের ডিনকে আহ্বায়ক করে এ কমিটি গঠন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে আইবিএর অধ্যাপক মুশতাক আহমদ ও অধ্যাপক ড. মো. রিদওয়ানুল হকের বিরুদ্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ ওঠে। ওই সময় বোর্ড অব গভর্ন্যান্সের (বিজি) ১১৩তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তৎকালীন প্রো-উপাচার্যকে (শিক্ষা) আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্য ছিলেন তৎকালীন বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন এবং ফিন্যান্স বিভাগের একজন অধ্যাপক।
তদন্ত শেষে কমিটি মত দেয়, অস্ট্রেলিয়ায় জমা দেওয়া সংশ্লিষ্ট গবেষণাপত্রটি সংশোধন সাপেক্ষে প্রকাশের জন্য বিবেচিত হয়েছিল, তবে তা চূড়ান্তভাবে গৃহীত বা প্রকাশিত হয়নি। গবেষণাপত্রটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাময়িকীতে কোনো খণ্ডসংখ্যা, সংখ্যাক্রম বা প্রকাশকাল উল্লেখ না থাকায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে কমিটি সিদ্ধান্তে উপনীত হয়। পরে তৎকালীন উপাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিজি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সেই সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ার পরও ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই অধ্যাপক ড. মো. রিদওয়ানুল হকের বিরুদ্ধে পুনরায় অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার সমর্থক ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষক। তাদের দাবি, হয়রানির উদ্দেশ্যে এই অভিযোগ আনা হয়েছে।
সূত্র জানায়, নতুন অভিযোগ পাওয়ার পর বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিনের মতামতের ভিত্তিতে এসএমটি সভায় বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য আইন উপদেষ্টার মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরে সেই মতামতের আলোকে নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
এদিকে, পূর্বে নিষ্পত্তি হওয়া একই অভিযোগে পুনরায় তদন্ত কমিটি গঠন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ও প্রশাসনিক পর্যায়ে অনুমোদিত একটি সিদ্ধান্ত পুনরায় তদন্তের আওতায় আনা নজিরবিহীন ঘটনা।
তাদের মতে, বিজি অনুমোদিত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার ক্ষেত্রে নতুন করে বোর্ডের সুস্পষ্ট অনুমোদন রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। এ ছাড়া ২০১৮ সালের তদন্তে বিবেচিত হয়নি এমন নতুন কোনো তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে কি না, সে বিষয়েও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
সংশ্লিষ্ট গবেষণাপত্রটির লেখক ছিলেন তিনজন। তবে নতুন অভিযোগে শুধু অধ্যাপক ড. মো. রিদওয়ানুল হকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে অভিযোগটির পেছনে ব্যক্তিগত আক্রোশ বা প্রতিহিংসার বিষয় থাকতে পারে বলে কেউ কেউ মনে করছেন।
মো. রিদওয়ানুল হক বলেছেন, ‘বিজির সিদ্ধান্তে আমাকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই ঘটনার পর আট বছর ধরে আমি অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষা খাতে আমার অবদানের কারণে প্রতিহিংসাপরায়ণ কিছু স্বার্থান্বেষী মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আমার সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এই অভিযোগ আনা হয়েছে।’
তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিশেষজ্ঞের মতামতের ভিত্তিতেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।




