অনলাইন ক্লাস ঠেকাতে মাঠে নামছে অভিভাবকরা
- শনিবার সংবাদ সম্মেলন করবে ‘ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল পেরেন্টস ফোরাম’
- বিকল্প ৪ প্রস্তাব নিয়ে মাঠে নামবেন অভিভাবকরা

সংগৃহীত ছবি
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাসের সম্ভাব্য সরকারি সিদ্ধান্তকে ‘আত্মঘাতী’ আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদে মাঠে নামছেন ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের অভিভাবকরা। করোনা মহামারীর তিক্ত অভিজ্ঞতা এবং আসন্ন ‘ও’ ও ‘এ’ লেভেল পরীক্ষার গুরুত্ব বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে ‘বাংলাদেশ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল পেরেন্টস ফোরাম’।
আগামী শনিবার সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি। এর আগে জনমত গঠনে অভিভাবকদের কাছ থেকে গুগল ফর্মে মতামত সংগ্রহ করা হচ্ছে।
ফোরামের সভাপতি এ কে এম আশরাফুল হক বলেছেন, ‘বর্তমান সময়ে অনলাইন ক্লাসে ফিরে যাওয়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে ধস নামাবে। কারণ আগামী জুন মাস থেকে ইংরেজি মাধ্যমের 'ও' এবং 'এ' লেভেল পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। বর্তমানে স্কুলগুলোতে সিটি টেস্ট বা ক্লাস টেস্ট পরীক্ষা চলছে। এ অবস্থায় সশরীরে ক্লাস বন্ধ করলে পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে বড় বিঘ্ন ঘটবে।’
এছাড়াও অভিভাবকদের মতে, স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন ক্লাস ফলপ্রসূ নয়। ক্লাসরুমের পরিবেশ ও শিক্ষকদের সরাসরি তত্ত্বাবধান ছাড়া পড়াশোনার মান বজায় রাখা সম্ভব হয় না।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম বলেছেন, অনলাইন ক্লাসের জন্য উচ্চগতির ইন্টারনেট ও প্রয়োজনীয় ডিভাইসের বাড়তি খরচ অভিভাবকদের ওপর নতুন বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। পাশাপাশি কর্মজীবী অভিভাবকদের জন্য সন্তানদের অনলাইন ক্লাস তদারকি করা প্রায় অসম্ভব-এমন অভিজ্ঞতার কথা অভিভাবকরা আমাকে জানাচ্ছে। তাই সরকার সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে এমনটা আশা তার।
অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু কড়া ভাষায় এমন সিদ্ধান্তকে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘সরকার বাচ্চাদের গিনিপিগ বানাচ্ছে। যেকোনো ধরনের দুর্যোগ আসলেই শিক্ষার্থীদের দিয়ে সে ট্রায়াল করানো হয়।’
‘করোনাকালে অনলাইন ক্লাসের ভয়াবহ পরিণতি হয়েছে। দেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর ল্যাপটপ বা উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ নেই। ফলে প্রান্তিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা শিক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।’ - যোগ করেন তিনি।
ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল পেরেন্টস ফোরামের পক্ষ থেকে ৪টি বিকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে ৩ দিন অনলাইন ও ৩ দিন অফলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি বাতিল করা। সপ্তাহে ৪ দিন স্কুলে সরাসরি ক্লাস নেওয়া হবে এবং বাকি ৩ দিন স্কুল সম্পূর্ণ ছুটি রাখা হবে। এতে পরিবহন ও প্রতিষ্ঠান উভয় ক্ষেত্রেই বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। প্রয়োজনে প্রতিদিনের ক্লাসের সময় কিছুটা কমিয়ে আনা এবং শ্রেণিকক্ষে এসির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে প্রাকৃতিক আলো-বাতাস ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করা।
ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে সাধারণত কেমব্রিজ এবং পিয়ারসন এডেক্সেল বোর্ডের অধীনে পরীক্ষাগুলো মে-জুন সেশনে অনুষ্ঠিত হয়। মে-জুন সেশন এবং অক্টোবর-নভেম্বর সেশন। তবে মে-জুন সেশন শিক্ষার্থীদের জন্য প্রধান সেশন। পরীক্ষা শুরুর মাত্র এক দেড় মাস আগে ক্লাসরুম থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে সরিয়ে দেওয়া তাদের ভবিষ্যতের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে সংগঠনটি।

