হাওরের জল ও জীবনের গল্প বিশ্বমঞ্চে
- লন্ডন ডিজাইন ফেস্টিভ্যালে হাওরের ঐতিহ্য তুলে ধরছে শাবিপ্রবি

হাওরের জল-জীবন, ভিটেমাটি, শীতলপাটির বুনন আর নকশিকাঁথার স্মৃতি এবার পৌঁছেছে বিশ্বমঞ্চে। গ্রামীণ জীবনের পরিচিত এসব অনুষঙ্গকে স্থাপত্য ও নকশার ভাষায় তুলে ধরছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) আর্কিটেকচার বিভাগ। লন্ডন ডিজাইন ফেস্টিভ্যাল ২০২৬-এর আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘ইন বিটুইন থ্রেশহোল্ডস-এ বাংলাদেশের হাওর অঞ্চলের জীবন ও স্থান ব্যবহারের সংস্কৃতি তুলে ধরবে বিশ্ববিদ্যালয়টির দুটি বিশেষ প্রকল্প। ১২-১৮ সেপ্টেম্বর লন্ডনের ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টমিনস্টারে আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের হাওরের স্থান ব্যবহারের সংস্কৃতি ও স্থানীয় কারুশিল্পকে নকশার মাধ্যমে তুলে ধরা হবে।
এ আন্তর্জাতিক আয়োজনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে শাবিপ্রবির দুই শিক্ষক ও আট শিক্ষার্থীর একটি প্রতিনিধি এরই মধ্যে লন্ডনে গেছেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আর্কিটেকচার বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ইফতেখার রহমান। তার সঙ্গে রয়েছেন সহযোগী অধ্যাপক কে. তৌফিক এলাহী।
তবে এই অংশগ্রহণ শুধু একটি প্রদর্শনীতে উপস্থিতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর পেছনে রয়েছে কয়েক বছর ধরে চলা গবেষণা ও নকশাচর্চা। ২০২১ সালে শুরু হওয়া ‘গ্রামের হাওর কোল্যাব’ প্রকল্পটি শাবিপ্রবির আর্কিটেকচার বিভাগ ও যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম সিটি ইউনিভার্সিটির আর্কিটেকচার অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগের যৌথ অ্যাকাডেমিক উদ্যোগ। প্রকল্পটির আওতায় হাওর অঞ্চলের পরিবর্তনশীল জনবসতি, ভূদৃশ্য এবং গ্রাম থেকে শহরমুখী রূপান্তর নিয়ে গবেষণা ও নকশা প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের ‘কোল্যাব-৬’ থেকে তৈরি দুটি প্রকল্প আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচিত হয়েছে।
নির্বাচিত প্রকল্প দুটির একটিতে গুরুত্ব পেয়েছে হাওর অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটির বুনন। ‘উইভিং দ্য ইন বিটুইন’ নামের এ প্রকল্পে শীতলপাটির বুনন কাঠামোকে ধারণা হিসেবে ব্যবহার করে মানুষ, বিভিন্ন কার্যক্রম ও স্থানকে যুক্ত করার সম্ভাবনা অনুসন্ধান করা হয়েছে। স্থানীয় কারুশিল্পকে ঘিরে মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ ও জনপরিসরের নতুন ব্যবহারের ধারণাও এতে তুলে ধরা হয়েছে।
অন্য প্রকল্প ‘হোয়ার এভরি থ্রেড ক্যারিজ আ স্টোরি, এভরি স্টিচ হোল্ডস আ মেমোরি’-তে উঠে এসেছে গ্রামীণ বাঙালি গৃহস্থালি জীবনের আরেক পরিচিত অনুষঙ্গ। নকশিকাঁথা, উঠান, বারান্দা ও নারীদের দৈনন্দিন কারুশিল্পচর্চার মধ্যকার সম্পর্ককে কেন্দ্র করে প্রকল্পটি সাজানো হয়েছে। অর্থাৎ, প্রচলিত গ্রামীণ জীবনের পরিচিত উপকরণ ও চর্চাগুলোকে স্থাপত্য ও নকশার ভাষায় নতুনভাবে দেখার চেষ্টা করা হয়েছে।
প্রকল্প দুটির মাধ্যমে বাংলাদেশের স্থানীয় জীবন ও কারুশিল্পকে আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন অধ্যাপক ইফতেখার রহমান। তিনি বলেছেন, ‘প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নকশা ও স্থাপত্যের আলোচনায় বাংলাদেশের হাওর অঞ্চলের ভূদৃশ্য, স্থানীয় কারুশিল্প এবং স্থান ব্যবহারের বিশেষ সংস্কৃতিকে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’



