শিক্ষামন্ত্রীর সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে অভিনব প্রতিবাদ জবি ছাত্রশক্তির

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে প্ল্যাকার্ড হাতে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন জবি ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা। ছবি: আগামীর সময়
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন জবি ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট বৈষম্য নিরসন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সম্পূরক বৃত্তি চালুর দাবিতে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।
আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে এ ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী।
ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীনের বক্তব্য চলাকালে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে তাদের দাবি তুলে ধরেন। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী কোনো বাধা না দিয়ে প্ল্যাকার্ডধারী শিক্ষার্থীদের নিজের কাছে ডেকে নেন এবং তাদের দাবিগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়েন।
প্রদর্শিত প্ল্যাকার্ডগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সম্পূরক বৃত্তি চালুর দাবি জানানো হয়। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘বেগম জিয়ার হাতে গড়া দুই দশকের ইতিহাস, বাজেটের পাতায় বৈষম্য আর জবিয়ানদের দীর্ঘশ্বাস’, ‘রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার, সম্পূরক বৃত্তি জবিয়ানদের অধিকার’ এবং ‘যমুনার অঙ্গীকার, রাজস্ব বাজেট বৃদ্ধি জবিয়ানদের অধিকার’।
জবি ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদ বলেছেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও এর শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে বাজেট বৈষম্যের শিকার। সর্বশেষ ঘোষিত বাজেটেও সেই বৈষম্য অব্যাহত রয়েছে।’
তিনি বলেছেন, ‘যমুনা আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য রাজস্ব বাজেটভুক্ত সম্পূরক বৃত্তি চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। এ কারণেই তারা এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন।’
ছাত্রশক্তির সদস্যসচিব শাহিন মিয়া বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নানা ক্ষেত্রে বঞ্চনার শিকার। শিক্ষামন্ত্রী ক্যাম্পাসে উপস্থিত থাকায় শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো সরাসরি তার নজরে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
সংগঠনটির মুখ্য সংগঠক ফেরদৌস শেখ বলেন, বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, ক্ষোভ ও প্রত্যাশা প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।




