জাবিতে গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ল ১০ গুণ
- বিশেষ পরীক্ষাসহ অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমেও একাধিক উদ্যোগ

গবেষণা করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশকে তথ্য সংগ্রহ, ফিল্ড ওয়ার্কের পাশাপাশি মুদ্রণ ও বাঁধাইয়ের খরচ বহন করতে হয়। অথচ এ খাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বরাদ্দ ছিল ৭৫০ টাকা। এবার সেই বরাদ্দ ১০ গুণ বাড়িয়ে ৭ হাজার ৫০০ টাকা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে আরও কয়েকটি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত রবিবার বিকালে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘদিনের কিছু অ্যাকাডেমিক জটিলতা কমানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে সভায়।
গবেষণায় ব্যয় নিয়ে এই পরিবর্তনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে— অনার্সের শেষ বর্ষে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বিশেষ পরীক্ষার সুযোগ। এত দিন অনার্সের শেষ বর্ষে কোনো একটি কোর্সে অকৃতকার্য হলে পরবর্তী বছর সেই কোর্সের পরীক্ষা দিতে হতো। এতে অনেক শিক্ষার্থীর একটি বছর নষ্ট হতো এবং মাস্টার্সে ভর্তি পিছিয়ে যেত। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এমন শিক্ষার্থীরা বিশেষ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এর ফলে তারা বছর না হারিয়ে ফলাফল সম্পন্ন করে মাস্টার্সে ভর্তির সুযোগ পাবেন। একইভাবে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরও শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেইল ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। আগে নির্ধারিত সময়ের পর এ সুবিধা বন্ধ হয়ে যেত।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর আরও এক বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইল ব্যবহার করতে পারবেন। গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার কাজে এই ইমেইল ব্যবহার করে বিভিন্ন অনলাইন লাইব্রেরি, জার্নাল ও অন্যান্য অ্যাকাডেমিক রিসোর্সে প্রবেশের সুযোগ পাবেন তারা।
শুধু সাধারণ শিক্ষার্থীদের সুবিধা নয়, শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতদিন শ্রুতিলেখক অনুমোদনের জন্য শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর, পরীক্ষা কমিটিসহ একাধিক দপ্তরে যেতে হতো। এতে সময়ের পাশাপাশি বাড়ত ভোগান্তিও। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শ্রুতিলেখক অনুমোদনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকেই সম্পন্ন করার প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের একাধিক দপ্তরে ঘোরার প্রয়োজন কমবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক শামছুল আলমের ভাষায়, শিক্ষার্থীদের সুবিধা ও শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করছে প্রশাসন। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কিছু অ্যাকাডেমিক সংস্কার করা হয়েছে। আরও কিছু বিষয় পর্যালোচনার জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।



