বাউবি থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো অধ্যাপক নাজনীনকে

ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) উপ-উপাচার্য পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদের মেয়ে ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীনকে।
আজ বৃহস্পতিবার তাকে অব্যাহতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে প্রো ভিসি পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে তাকে।
বাউবি সূত্র জানিয়েছে, ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীনকে অপসারণের নেপথ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং ঢাবির একজন প্রভাবশালী শিক্ষকের হস্তক্ষেপ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঢাবি শিক্ষক জানিয়েছেন, ২০২৪ সালে ৫ আগস্টের পর উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য হিসেবে নিয়োগ পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপচার্য ওবায়দুল ইসলাম। তার সময়ে বাউবির ট্রেজারার ছিলেন ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম। ওই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ হাতে নেওয়া হয়। তবে এসব প্রকল্পের কেনাকাটা ও নথিপত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠায় রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন ওই ফাইলগুলোতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান। একটি ফাইলে শর্ত জুড়ে দিয়ে অন্যটির জন্য ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভবতা যাচাই করতে বলেন তিনি। এতে বাউবিতে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়, যা তার অপসারণের সিদ্ধান্তকে ত্বরান্বিত করেছে।
এ বিষয়ে রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘আমাকে কেন সরিয়ে দিয়েছে সেটি সরকার ভালো বলতে পারবে। আমার জানামতে, কোনো অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে আমি যুক্ত ছিলাম না। বরং কিছু ফাইলে সাক্ষর করতে শর্ত দিয়েছিলাম। সেগুলোতে দুর্নীতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেটা কারণ কি-না জানি না।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাউবির উপাচার্য সিদ্দিকুর রহমান খান বলেছেন, আমার সময়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। আগে ঘটেছে কি না জানি না।






