বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
আগামীর সময়
মিথ্যা বলার যুগ শেষ! কোথায় আছেন শনাক্ত করবে বিজ্ঞান

মিথ্যা বলার যুগ শেষ! কোথায় আছেন শনাক্ত করবে বিজ্ঞান

বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
আগামীর সময়
আগামীর সময় ক্যাম্পাস

বাড়ছে উদ্বেগ

শিক্ষাঙ্গনে কালো ছায়া ফেরার আশঙ্কা

  • পাল্টাপাল্টি দোষারোপে বাড়ছে উত্তাপ
  • আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীদের মাঝে
  • নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি আরও খারাপের আশঙ্কা
আমজাদ হোসেন হৃদয়প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:১৪
শিক্ষাঙ্গনে কালো ছায়া ফেরার আশঙ্কা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়

শিক্ষাঙ্গনে আবারও অস্থিরতার কালো ছায়া ঘনিয়ে আসার আশঙ্কা মিলছে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্ররাজনীতিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে, বিশেষ করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনাগুলো নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এসব ঘটনায় রোষের শিকার হচ্ছেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাংবাদিকরাও।

এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দলীয় লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতির কারণে শিক্ষাঙ্গন বারবার সমালোচনার মুখে পড়েছে। ছাত্ররাজনীতির আড়ালে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, হল দখল, মারামারি ও নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ফলে ধীরে ধীরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে এই রাজনীতির গ্রহণযোগ্যতা কমে যায়। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর এই ক্ষোভ আরও প্রকাশ্যে আসে, অনেক জায়গায় ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিও ওঠে এবং কিছু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়। এর ফলে একসময় ক্যাম্পাসগুলোতে গেস্টরুম ও গণরুম সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে পরিবেশ তৈরি হয়েছিল সহাবস্থানের।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই স্থিতিশীল পরিবেশে আবারও ফাটল দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ছাত্রসংগঠন দুটি। একসময় যুগপৎ আন্দোলন করা সংগঠন দুটি কার্যত মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে সারা দেশে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কাউকে কাউকে হল ও ক্যাম্পাস ছাড়তেও দেখা গেছে। এই পরিস্থিতিতে একে অপরকে দায়ী করতে দেখা গেছে দুই সংগঠনকে।

গত দুই-তিন দিন ধরে যে ছাত্ররাজনীতি দেখছি, এ প্রজন্ম তা পছন্দ করে না। কারণ ফ্যাসিস্টের ধারাবাহিকতায় চাপাতি, অস্ত্র, রামদা নিয়ে ৫ আগস্টের পরও ছাত্ররাজনীতি থাকবে, ময়দান কলুষিত করা হবে-এটা হতে পারে না। জ্বালানি সংকট নিয়ে যেমন ঐতিহাসিক আলোচনা হয়েছে, ছাত্ররাজনীতি নিয়েও তেমন একটি আলোচনার পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে

-পানিসম্পদমন্ত্রী

এ অবস্থায় ক্যাম্পাসের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পাশাপাশি ছাত্ররাজনীতি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাবও উঠেছে জাতীয় সংসদে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। তারা বলেছেন, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে, যার প্রভাব পড়বে সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর।’

আরও পড়ুন

ফেসবুক পোস্ট ঘিরে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের দফায় দফায় সংঘর্ষ

২৩ এপ্রিল ২০২৬

সাম্প্রতিক সময়ের অস্থিরতার সূত্রপাত হয় চট্টগ্রামে, যেখানে চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ক্যাম্পাস জুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়। কলেজে গ্রাফিতিতে ‘ছাত্র’ মুছে ‘গুপ্ত’শব্দ লেখা নিয়ে গত মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দুই দফায় ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ধারালো অস্ত্রের কোপে স্থানীয় একটি ওয়ার্ডের শিবিরের সভাপতি ও সংগঠনটির সাথি আশরাফুল ইসলামের পায়ের একটি গোড়ালি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে গতকাল বুধবার বিকেলে ঢাকায় নেওয়া হয়। সংঘর্ষের সময় দেশীয় অস্ত্রও দেখা গেছে অনেকের হাতে।

ছাত্ররাজনীতি কোনো সমস্যা নয়, সমস্যা হচ্ছে এর অপব্যবহার। যখন ছাত্রসংগঠনগুলো আদর্শিক চর্চার জায়গা থেকে সরে গিয়ে শক্তি প্রদর্শন, আধিপত্য বিস্তার ও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, তখন পুরো শিক্ষাঙ্গন অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে হবে

এর রেশ কাটতে না কাটতেই পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের আরও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একই ধরনের উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি অবস্থানের খবর সামনে আসে। গতকাল বৃহস্পতিবার পাবনার ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রশিবিরের একটি বিক্ষোভ মিছিল কলেজ গেটের সামনে পৌঁছালে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় কয়েকজন আহত হন এবং কলেজ গেটসংলগ্ন একটি অস্থায়ী কার্যালয় ভাঙচুর করা হয় ছাত্রদলের।

সুশীল কথা বলে ক্যাম্পাসগুলোতে সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিচ্ছে সরকার। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকার নব্বইয়ের পুরোনো কালচার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলে শিবির তা মোকাবিলা করবে
ডাকসু ভিপি

পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার রাতে এক বিতর্কিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তী সময়ে সহিংসতায় রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে ডাকসুর কেন্দ্রীয় নেতা, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী এবং দায়িত্ব পালনরত একাধিক সাংবাদিকের ওপর হামলা চালায় ছাত্রদলের কর্মীরা। পরবর্তী সময়ে প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি) ও রিউমার স্ক্যানারসহ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক একাধিক ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থার যাচাইয়ে উঠে আসে যে, সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবিটি ছিল সম্পূর্ণ এডিটেড ও ভুয়া।

উত্তেজনাকর পরিস্থিতি চলাকালীন সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। আমি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করছি
ছাত্রদল সম্পাদক

তদন্তে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে ঢাবি শিক্ষার্থী ও শিবির কর্মী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে একটি ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি করে তা ছড়িয়ে দেয়, যার উদ্দেশ্য ছিল বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা। ঘটনার সত্যতা অনুধাবন করে ডাকসুর নেতারা বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলা করতে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটে।

অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় ছাত্রদলের শতাধিক কর্মী থানার ভেতরে প্রবেশ করে এবং পুলিশের উপস্থিতিতেই ডাকসুর নেতা, শিবিরের কর্মী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়।

আরও পড়ুন

শাহবাগ থানায় সংঘর্ষ, আহত ১৩ সাংবাদিক

২৩ এপ্রিল ২০২৬

রোষের শিকার সাংবাদিকরাও

ছাত্ররাজনীতির এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলা ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন সাংবাদিকরা। গত দুই দিনে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ জনের বেশি সাংবাদিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগ থানার ভেতর বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলা করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। রাত ৮টার দিকে ঘটে এ হামলার ঘটনা। এতে আহত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি মানজুর হোছাঈন মাহি, সাধারণ সম্পাদক ও আগামীর সময়ের প্রতিনিধি লিটন ইসলাম, দেশ রূপান্তরের এইচ এম খালিদ হাসান, ডেইলি অবজারভারের নাইমুর রহমান ইমন, ডেইলি স্টারের মাহাথীর মোহাম্মদ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের মো. ছাব্বিরুল ইসলাম, নয়াদিগন্তের মো. হারুন ইসলাম, রাইজিংবিডি ডটকমের মো. সৌরভ ইসলাম, মানবজমিনের মো. আসাদুজ্জামান খান, ঢাকা ট্রিবিউনের মো. সামশুদৌজা নবাব, প্রাইম বাংলাদেশের ইফতেখার সোহান সিফাত ও প্রতিদিনের বাংলাদেশের মাহরিব বিন মহসিন।

‘কয়েকজন সাংবাদিক ভিডিও করতে গেলে তাদের প্রথমে বাধা দেন ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী। পরে আমি গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলি আর নিজের পরিচয় দিলে ছাত্রদলের সাবেক সহ-স্কুলবিষয়ক সম্পাদক সফি ওবায়দুর রহমান সামিথ আমাকে ‘সাংবাদিক সমিতির সভাপতি হয়েছিস তো কী বাল হয়েছে’ বলে তেড়ে আসে’—বলছিলেন ঢাবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মানজুর মাহি।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মাহি আরও বললেন, এরপর কয়েক দফায় বাগবিতণ্ডা চলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে। একপর্যায়ে তারা সবাই মিলে আমাদের চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে এবং এলোপাতাড়ি মারতে থাকে।

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক হলে দেয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বুধবার রাতে বিজয় ৭১ হল, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল এবং শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে পৃথকভাবে এসব ঘটনা ঘটে। এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ছয়জন সাংবাদিক হেনস্তা ও হুমকির শিকার হন।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ৩ দফা দাবি জানিয়ে আলটিমেটাম দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং জড়িত শিক্ষার্থীদের স্থায়ী বহিষ্কার করা না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।

তবে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করলেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। ফেসবুক পোস্টে লিখলেন, ‘উত্তেজনাকর পরিস্থিতি চলাকালীন সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। আমি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও গণমাধ্যমের অবাধ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী।’

‘ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সাংবাদিক সমিতির ভূমিকা ছিল অসামান্য। আমরা আশা করছি, ভবিষ্যতে আর কোনো সাংবাদিক যাতে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেন হয়রানির শিকার না হয়’—যোগ করেন ছাত্রদল সম্পাদক।

আরও পড়ুন

গুপ্ত বিতর্কে উত্তাল সংসদ ও রাজপথ!

২৩ এপ্রিল ২০২৬

আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা

ক্যাম্পাসগুলোতে সহিংসতার ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, আবারও শিক্ষাঙ্গনে দখলদারিত্বভিত্তিক পুরোনো ছাত্ররাজনীতি ফিরে আসছে। তারা বলছেন, সংঘর্ষ, মারামারি ও আধিপত্য বিস্তারের রাজনীতি শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশকে নষ্ট করছে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি করছে অনিশ্চয়তা।

কয়েকদিনের সহিংসতার ঘটনায় ক্ষোভ ঝাড়লেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরাফাত রহমান। তার ভাষ্য, ক্যাম্পাসে পড়াশোনা করতে এসেছি, কোনো সংগঠনের শক্তি প্রদর্শনের মাঠ দেখতে না। বারবার সংঘর্ষ, দখলবাজি আর আতঙ্কের পরিবেশে স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয়। এমন ছাত্ররাজনীতি চাই না, যেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভয় নিয়ে চলতে হয়।

একই সুরে বললেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিয়া তাসনিম। ‘হল দখল, মারামারি, হুমকি- এসব সংস্কৃতি থেকে বের হতে চেয়েছিলাম। অভ্যুত্থানের পর মনে হয়েছিল ক্যাম্পাসে সহাবস্থান ফিরছে, কিন্তু আবারও অস্থিরতা বাড়ছে। আমরা চাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, যেখানে মতভিন্নতা থাকবে, কিন্তু সহিংসতা থাকবে না।’

আবারও ক্যাম্পাসে পেশিশক্তির চর্চার ঘটনায় হতাশ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অর্থি আনজুম। তার মতে, ‘বিশ্ববিদ্যালয় হলো গবেষণা ও পড়ার জায়গা, পেশিশক্তি দেখানোর মাঠ নয়। এই অস্থিতিশীলতা আমাদের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে ফেলছে।’

আরও পড়ুন

হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের মামলা, শিবির নেতাদের খুঁজছে পুলিশ

২৪ এপ্রিল ২০২৬

একে অপরকে দোষারোপ ছাত্রদল-শিবিরের

ক্যাম্পাসগুলোতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির জন্য একে অপরকে দুষছে ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবিরের নেতারা।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেছেন, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘গুপ্ত রাজনীতি’চলতে দেওয়া হবে না।

তার অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে উল্টো দায় চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে নাছির বলেছেন, ‘বাংলাদেশের কোনো ক্যাম্পাসে আবারও হামলা করার চেষ্টা করলে শক্তভাবে শিবিরকে প্রতিহত করা হবে। শিবিরকে প্রতিটি ক্যাম্পাসে হাজার হাজারবার ‘গুপ্ত’ বলা হবে। গত ১৭ বছর ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের সঙ্গে মিশে রাজনীতি করেছে শিবির, ছাত্রলীগের কিছুটা দায় শিবিরকে নিতে হবে।’

ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের দাবি, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অত্যন্ত সহনশীলভাবে ও ধৈর্যসহকারে ছাত্রদল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে, বিশেষ করে গুপ্ত রাজনীতির নামে যা করা হচ্ছে তাতে সারা বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ। আমরা তারপরও অত্যন্ত ধৈর্য এবং সহনশীলভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছি।’

‘সুশীল কথা বলে ক্যাম্পাসগুলোতে সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিচ্ছে সরকার। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকার নব্বইয়ের পুরোনো কালচার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলে শিবির তা মোকাবিলা করবে’—বললেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) ভিপি ও কেন্দ্রীয় শিবির নেতা সাদিক কায়েম।

ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম হোসেন অভিযোগ করেন, ‘ক্যাম্পাসে আগে সরকারি দল যেভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করত, এখন ছাত্রদল তা করছে। তারা তাদের ক্ষমতার প্রভাব দেখানোর জন্য ছাত্রদল এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছে। ছাত্রদল নিজেরা হামলা করে আবার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করছে। ছাত্রলীগের মতো ছাত্রদলেরও চরিত্র ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠছে।’

‘সরকারের ব্যর্থতা ঢাকতে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে হামলা করে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে নেওয়া হচ্ছে’—যোগ করলেন শিবির সভাপতি।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ক্রিয়াশীল সব ছাত্র সংগঠনকে এক টেবিলে বসার আহ্বান জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান। তার ভাষ্য, ক্যাম্পাসকে শান্ত রাখার আন্দোলন চলমান থাকবে। পাশাপাশি ছাত্রশক্তির পক্ষ থেকে আহ্বান জানাই-সব ছাত্র সংগঠন এক টেবিলে বসে আলোচনা করি, ক্যাম্পাসে কী কী আচরণ গ্রহণযোগ্য এবং কী কী ভায়োলেশন তা নির্ধারণ করি। এরপর সবাই মিলে সেই নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করব।

আরও পড়ুন

মামলার প্রস্তুতি শিবিরের, সংকেতের অপেক্ষায় ছাত্রদল

২৩ এপ্রিল ২০২৬

সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা

একাধিক সূত্র বলছে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নড়েচড়ে বসছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও ক্যাম্পাসের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদেও ছাত্ররাজনীতি নিয়ে সংসদে আলোচনার প্রস্তাব উঠেছে। গতকাল রাতে শাহবাগ থানায় সংঘর্ষের ঘটনার পর আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী)।

ছাত্ররাজনীতি নিয়ে সংসদে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এমন প্রস্তাবের কথা জানালেন পানিসম্পদমন্ত্রী।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলছিলেন, গত দুই-তিন দিন ধরে যে ছাত্ররাজনীতি দেখছি, এ প্রজন্ম তা পছন্দ করে না। কারণ ফ্যাসিস্টের ধারাবাহিকতায় চাপাতি, অস্ত্র, রামদা নিয়ে ৫ আগস্টের পরও ছাত্ররাজনীতি থাকবে, ময়দান কলুষিত করা হবে-এটা হতে পারে না। জ্বালানি সংকট নিয়ে যেমন ঐতিহাসিক আলোচনা হয়েছে, ছাত্ররাজনীতি নিয়েও তেমন একটি আলোচনার পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

যা বলছেন শিক্ষাবিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন

শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেছেন, ‘ছাত্ররাজনীতি নিজেই কোনো সমস্যা নয়, সমস্যা হচ্ছে এর অপব্যবহার। যখন ছাত্রসংগঠনগুলো আদর্শিক চর্চার জায়গা থেকে সরে গিয়ে শক্তি প্রদর্শন, আধিপত্য বিস্তার ও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, তখন পুরো শিক্ষাঙ্গন অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে হবে।’

‘ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নিশ্চিত করা, সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়া এবং সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। ছাত্ররাজনীতি যদি শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে, তাহলে সেটি কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক চর্চা হতে পারে না। নিয়ন্ত্রণহীন পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় রাজনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে’—যোগ করেন ড. হোসেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেছেন, ‘গত দু-এক দিন ধরে ক্যাম্পাসে যে ঘটনাগুলো ঘটছে, তা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও উদ্বেগজনক। আমরা বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। শিক্ষাঙ্গনের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’

‘ক্যাম্পাসে যেন কোনোভাবেই অস্থিরতা ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন পর্যায়ে দ্রুত বৈঠকে বসে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে’, যোগ করেন ঢাবি উপাচার্য।

ছাত্রদলসংঘর্ষশাহবাগছাত্রশিবির
    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    শাকিব-আদনানের ‘জয়ধ্বনি’, ২৪ ঘণ্টায় দেড় কোটি

    শাকিব-আদনানের ‘জয়ধ্বনি’, ২৪ ঘণ্টায় দেড় কোটি

    ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৫৪

    রাজধানীর নিউমার্কেটে ফিল্মি স্টাইলে গুলি

    রাজধানীর নিউমার্কেটে ফিল্মি স্টাইলে গুলি

    ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০০:৪৮

    সুদ বেশি সময় কম কঠিন শর্ত

    সুদ বেশি সময় কম কঠিন শর্ত

    ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ২২:২৪

    কোনো পদক্ষেপ নিলে রণক্ষেত্রে কঠিন জবাব পাবে শত্রুপক্ষ

    কোনো পদক্ষেপ নিলে রণক্ষেত্রে কঠিন জবাব পাবে শত্রুপক্ষ

    ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০০:১৪

    আওয়ামী লীগ আমলে বিদ্যুৎ খাতে হয়েছে লাগামহীন দুর্নীতি

    আওয়ামী লীগ আমলে বিদ্যুৎ খাতে হয়েছে লাগামহীন দুর্নীতি

    ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪২

    ঢাকার রাজপথে শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটনকে গুলি করে হত্যা

    ঢাকার রাজপথে শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটনকে গুলি করে হত্যা

    ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ২২:২৭

    সিরিজটা বাংলাদেশের হোক চট্টগ্রামেই

    সিরিজটা বাংলাদেশের হোক চট্টগ্রামেই

    ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ২২:৪৩

    না কাটলে ডুবছে, কাটলে পচছে

    না কাটলে ডুবছে, কাটলে পচছে

    ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০৯

    মৃত বোনের কঙ্কাল নিয়ে ব্যাংকে হাজির ভাই

    মৃত বোনের কঙ্কাল নিয়ে ব্যাংকে হাজির ভাই

    ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১২

    তদন্তে মিলল লিমন-বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত

    তদন্তে মিলল লিমন-বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত

    ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৫

    কৃষির যান্ত্রিকীকরণে সহযোগিতা করতে চায় বেলারুশ

    কৃষির যান্ত্রিকীকরণে সহযোগিতা করতে চায় বেলারুশ

    ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:২২

    ‘ক্ষমতাধর’ ক্যাডারে পিছিয়ে নারীরা

    ‘ক্ষমতাধর’ ক্যাডারে পিছিয়ে নারীরা

    ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৫১

    চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

    চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

    ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২৯

    আ. লীগের পতনে নির্বাচনী লড়াইয়ে মুখোমুখি বিএনপি-জামায়াত

    আ. লীগের পতনে নির্বাচনী লড়াইয়ে মুখোমুখি বিএনপি-জামায়াত

    ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪৯

    ব্রিটিশ রাজদম্পতির সফর ঘিরে হোয়াইট হাউজে জমকালো আয়োজন

    ব্রিটিশ রাজদম্পতির সফর ঘিরে হোয়াইট হাউজে জমকালো আয়োজন

    ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ২২:৫৪

    advertiseadvertise

    প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

    সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

    আগামীর সময়
    আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলীগোপনীয়তাআমরা

    ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

    যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

    বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

    info@agamirsomoy.com

    স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

    • বেটা
    • সর্বশেষ
    • ইপেপার
    EN
    • বেটা
    • সর্বশেষ
    • জাতীয়
    • রাজনীতি
    • অর্থনীতি
    • সারা দেশ
    • বিশ্ব
    • খেলা
    • বিনোদন
    • লাইফস্টাইল
    • মতামত
    • ফিচার
    • ভিডিও
    • চট্টগ্রাম
    • শিক্ষা
    • বিচিত্রা
    • ইপেপার
    • EN