গুপ্ত লেখা নিয়ে সংঘর্ষ
মামলার প্রস্তুতি শিবিরের, সংকেতের অপেক্ষায় ছাত্রদল

ছবি: আগামীর সময়
চট্টগ্রামে ছাত্রদল ও শিবিরের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও কোনোপক্ষই এখন পর্যন্ত থানায় লিখিতি অভিযোগ করেনি। মঙ্গলবারের ওই ঘটনার একাধিক অস্ত্রধারীর ছবি ও ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রশিবিরের নেতারা জানিয়েছেন, তারা মামলা করতে প্রস্তুত। আর কেন্দ্রীয় ও মহানগরের নেতাদের নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকার কথা জানিয়েছেন কলেজ ছাত্রদলের নেতারা।
‘ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ’ এমন দেয়াল লিখন থেকে ছাত্র শব্দ মুছে ‘গুপ্ত’ লেখার জেরে গত মঙ্গলবার দুপুরে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রথম দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কমপক্ষে ৮ জন আহত হয়।
প্রতিবাদে বিকালে নিউমার্কেট মোড়ে বিক্ষোভের ডাক দেয় শিবির। বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কলেজের দিকে শিবিরের নেতাকর্মীরা এগিয়ে গেলে আগে থেকে সেখানে অবস্থানরত ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ২৬ নেতাকর্মী আহত হয়।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত কেউ থানায় কোনো অভিযোগ করেনি বলে জানালেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (দক্ষিণ) মাহমুদুল হাসান। তার ভাষ্য, থানায় অভিযোগ করার পর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সিটি কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি হামেদ হাসান মিশকাত জানান, আমরা মামলা রেডি করেছি। একটি মামলাই করবো। রাতে আমরা মামলার এজাহার নিয়ে সদরঘাট থানায় যাব।
কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল সিদ্দিকী রনির ভাষ্য, ‘মামলার বিষয়ে আমাদের মধ্যে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। গতকাল ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এসেছেন। কেন্দ্র থেকে মামলা করার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। মহানগরের নেতারা বলেছেন সমঝোতা করে দেওয়া হবে। সামান্য একটা গুপ্ত শব্দের জন্য শিবির যেভাবে আমাদের ওপর হিংসাত্মকভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। এটার বিচার না হয়ে কীভাবে সমঝোতা হবে আমরা জানি না।’
নগর পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের সংঘাতে যোগ দেওয়া বহিরাগতদের মধ্যে অন্তত ১০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে এখনও ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি।
সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী জানান, ছবি ও ভিডিও ফুটেজ দেখে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।


