ঢাবিতে শেখ পরিবারের ৫ স্থাপনার নাম পরিবর্তন না করায় সিনেট থেকে ডাকসু নেতাদের ওয়াক আউট

ঢাবি সিনেট থেকে ডাকসু নেতাদের ওয়াকআউট। ছবি: আগামীর সময়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ পরিবারের নামে থাকা পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তন ইস্যুতে সিনেট অধিবেশনে সৃষ্টি হয়েছে উত্তেজনার। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় প্রতিবাদ জানিয়ে অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) পাঁচজন সিনেট প্রতিনিধি। পরে উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বিষয়টি পুনরায় সিন্ডিকেটে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সোমবার রাত সোয়া ১০টার দিকে সিনেট অধিবেশন চলাকালে ওয়াকআউট করেন ডাকসু ভিপি সাদেক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ, এজিএস মুহাম্মদ মহিউদ্দিন, পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ ও সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না। এ সময় উপাচার্য তাদের অধিবেশন না ছাড়ার অনুরোধ জানান।
এর আগে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিষয়টি সিনেটের আলোচ্যসূচিতে উত্থাপন করা হয়। এ সময় সদস্যরা এ নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান বিষয়টি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পুনরায় সিন্ডিকেটে উপস্থাপনের পরামর্শ দেন। অন্যদিকে অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা নাম পরিবর্তনের বিষয়ে আপত্তি জানান।
ডাকসু প্রতিনিধিরা তাদের বক্তব্যে বলছিলেন, শেখ পরিবারের নামে থাকা স্থাপনাগুলোর কারণে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়ছেন। তারা উদাহরণ দিয়ে জানান, শেখ মুজিবুর রহমান নামের হলের ব্যানার নিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে গেলে শিক্ষার্থীরা হেনস্তার শিকার হন। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্লাব কার্যক্রম পরিচালনায় স্পনসর সংকটের কথাও তুলে ধরেন তারা।
ডাকসু ভিপি সাদেক কায়েম বলেছেন, ‘জুলাই বিপ্লবের পর শেখ পরিবারের নামে থাকা ৮ শতাধিক প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। সুতরাং এ বিষয়ে দৃষ্টান্ত রয়েছে। নাম পরিবর্তন করে বীরশ্রেষ্ঠসহ অন্যান্য প্রস্তাব বিবেচনায় আনা যেতে পারে।’
এছাড়া গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুল হক মিলন শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে নামকরণের প্রস্তাব দেন।
শেষ পর্যন্ত বিষয়টি চূড়ান্ত না হওয়ায় উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম আলোচ্য ইস্যুটি পুনরায় সিন্ডিকেটে পাঠানোর নির্দেশ দেন।




