শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এবার ঢাকা বোর্ড ঘেরাও শিক্ষার্থীদের

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান—ছবি: সংগৃহীত
টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে গতকাল সোমবার এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেন তারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ভুল ছিল। প্রশ্নও ছিল অতিরিক্ত কঠিন। তাদের দাবি, অভিন্ন প্রশ্নপত্র আগের বছরের তুলনায় অনেক কঠিন হয়েছে।
দুপুর পৌনে ৩টার দিকে শিক্ষার্থীরা বকশীবাজারে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান নেন। সেখানে তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন। ‘ভুয়া, ভুয়া’ বলেও স্লোগান দিতে দেখা যায়।
একপর্যায়ে কয়েকজন ইট ছোড়েন। বোর্ডের গেটে ধাক্কাধাক্কিও হয়। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেন।
এর আগে সকালে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরের দিকে যান। সেখানে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এরপর তারা পলাশীর মোড় হয়ে শিক্ষা বোর্ডের সামনে যান।
প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থলের পাশেই বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা, পুলিশের বাধায় হট্টগোল
১৪ জুলাই ২০২৬
উত্তরায় বিএনএস সেন্টারের সামনে শিক্ষার্থীরা ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। উত্তরা ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা বিষয়টি জানান।
বরিশালে ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কও অবরোধ করা হয়। ময়মনসিংহে অবরোধ করা হয় ময়মনসিংহ–টাঙ্গাইল মহাসড়ক। এ ছাড়া কুমিল্লা, বগুড়া ও ময়মনসিংহে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা।
সায়েন্স ল্যাব মোড়ে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মিরপুর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে একদল ঢাকা কলেজের সামনে এবং আরেক দল টিএসসির দিকে চলে যান। এরপর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
অবরোধে ঢাকা সিটি কলেজ, ঢাকা আইডিয়াল কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ, লালমাটিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বিএফ শাহীন কলেজসহ ১২ থেকে ১৫টি কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা ‘দফা এক, দাবি এক—শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ’, ‘তুমি কে, আমি কে—ফার্মের মুরগি’ এবং ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত বললেন, ‘পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষায় আটটি প্রশ্নের মধ্যে দুটি প্রশ্ন ভুল ছিল। বাকি প্রশ্নগুলোও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার মতো কঠিন হয়েছে। এতে কেউ ফেল করলে তার দায় কি শিক্ষামন্ত্রী নেবেন?’
ঢাকা আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী আহনাফ মুনজি বললেন, ‘বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেনি। কেউ পথে পড়ে গেছে। কারও অ্যাডমিট কার্ড ভিজে নষ্ট হয়েছে। এসবের দায়ও শিক্ষামন্ত্রীকে নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করতে না পারলে এমন শিক্ষামন্ত্রী তারা চান না।’
রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার রব্বানী হোসেন বললেন, ‘শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে দেওয়ার পর রাজধানীতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।’







