সালাহউদ্দিন আম্মার
রাকসু না হওয়ার পক্ষে যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারলে সরে দাঁড়াব

রাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) পরবর্তী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও সিনেট অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানিয়েছেন রাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার।
তিনি বলেছেন, রাকসু নির্বাচন না হওয়ার পেছনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যৌক্তিক কোনো কারণ দেখাতে পারলে তারা নির্বাচন আদায়ের দাবি থেকে সরে দাঁড়াবেন। অন্যথায় আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে দাবি আদায়ে কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
আজ রবিবার বিকাল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি দুটি প্রধান দাবি তুলে ধরেন। প্রথমত, রাকসুর পরবর্তী নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রকাশ এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা। দ্বিতীয়ত, নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করে দ্রুত সিনেট অধিবেশন আহ্বান।
রাকসুর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে আম্মার বলেছেন, শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় ও নেতৃত্ব বিকাশে রাকসুর কার্যক্রম অব্যাহত রাখা জরুরি। একটি কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পরবর্তী নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রকাশ করতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করতে হবে।
সিনেট অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সিনেটের ভূমিকা অপরিসীম। অথচ ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনে বিজয়ীরা এখনো শপথ নিতে পারেননি। ফলে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অবিলম্বে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণ এবং সিনেট অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানাচ্ছি।’
রাকসু সফল কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আম্মার জানালেন, ‘আমার দৃষ্টিতে রাকসু সফল। কোনো পরিষদ সফল না ব্যর্থ, তা তুলনা করার সুযোগ তৈরি হয় তখনই, যখন পরবর্তী আরেকটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ে পরবর্তী রাকসু নির্বাচন আয়োজনের পরিবেশ রয়েছে দাবি করে আম্মার বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রশাসন যেন রাকসু আর দেবে না— এমন চিন্তা না করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। পরবর্তী রাকসু নির্বাচন আয়োজনের মতো সুন্দর পরিবেশ রয়েছে। রাকসুর ফান্ডে এখন পর্যন্ত ২ কোটি ৩০ লাখ টাকার বেশি রয়েছে। রাকসু না হওয়ার পেছনে কোনো যৌক্তিকতা নেই। প্রশাসন যদি একটি কারণ দেখাতে পারে, তাহলে আমরা রাকসু আদায়ের দাবি থেকে সরে দাঁড়াব।’
আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি বললেন, ‘আগামী ১০ তারিখের মধ্যে আমরা হার্ডলাইনে যাব। আমার কোনো রাজনৈতিক ব্যানার নেই। আমি আমার আগের প্ল্যাটফর্ম রাবি সংস্কার আন্দোলনে ফিরে যাব।’
দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।




