নটর ডেম কলেজে কমেছে পাসের হার ও জিপিএ-৫

ফলাফল জানতে পেরে নটর ডেম কলেজে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস। ছবি: আগামীর সময়
রাজধানীর নটর ডেম কলেজে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। এ বছর কলেজটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাস করেছেন ৯৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ২২৯ জন।
আজ শনিবার বেলা ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। এ সময় তার পাশে ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
প্রতি বছর এইচএসসির ফল প্রকাশের দিন নটর ডেম কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়, এবার ছিল তার ব্যতিক্রম। ফল প্রকাশের পরও ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। তবে যারা ক্যাম্পাসে এসে ফল দেখেছেন, তাদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
গত বছর কলেজটির পাসের হার ছিল ৯৯ দশমিক ৬০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ২ হাজার ৪৫৪ জন। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে শূন্য দশমিক ৭৭ শতাংশ। অন্যদিকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২৫ জন।
এ বছর নটর ডেম কলেজ থেকে মোট ৩ হাজার ২৭২ জন পরীক্ষার্থী নিবন্ধন করেন। এদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৩ হাজার ২৫৬ জন। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ৩ হাজার ২১৮ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৩৮ জন।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২ হাজার ৯৭ জন পরীক্ষার্থী পাস করেছেন। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৮০৭ জন। অকৃতকার্য ২৫ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ৭৪৮ জন। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ৭৪১ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৩৩ জন। এ বিভাগে দুজন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
অন্যদিকে মানবিক বিভাগে পরীক্ষার্থী ছিলেন ৪০২ জন। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ৩৮০ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ২২ জন। একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন। মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮৯ জন। পাসের হার ৯৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
প্রতিষ্ঠানটিতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তবে সামগ্রিকভাবে গত বছরের তুলনায় কলেজটির ফলাফলে কিছুটা অবনতি হয়েছে।
সকাল থেকেই কলেজ ক্যাম্পাসে ফলাফলের অপেক্ষায় ছিলেন পরীক্ষার্থী ভূবণ চক্রবর্তী। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফল জানতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি। ভূবণ বললেন, ‘আশানুরূপ ফল পেয়েছি। আশা ছিল জিপিএ-৫ পাব। ফল পাওয়ার পর বাসায় জানিয়েছি। পরিবারের সদস্যরাও খুশি হয়েছেন। এখন ভর্তির প্রস্তুতি নিতে হবে। মেডিকেলে পড়ার ইচ্ছা আছে, তাই সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
আরেক পরীক্ষার্থী আঞ্জু রহমান বলেছেন, ‘ফলাফল নিয়ে বেশ নার্ভাস ছিলাম। অনেকক্ষণ চেষ্টা করেও ফল দেখতে পারছিলাম না। পরে বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে ফল প্রকাশের ওয়েবসাইটে ঢুকতে পেরেছি। সেখানে জিপিএ-৫ দেখে ভালো লেগেছে। ইচ্ছা ছিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার। তবে বিষয়ভিত্তিক নম্বর দেখে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা ভাবছি।’



