সংকটে ফনিক্স ফাইন্যান্স

ফনিক্স ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার বা টিকে থাকার সক্ষমতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন নিরীক্ষক। বিপুল অঙ্কের ধারাবাহিক লোকসান, ঋণাত্মক নিট সম্পদ, ভয়াবহ তারল্যঘাটতি এবং মূলধন পর্যাপ্ততায় বিশাল শূন্যতা— সব মিলিয়ে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক পর্যায়ে পৌঁছেছে। নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান মাহমুদ সবুজ অ্যান্ড কোম্পানির ম্যানেজিং পার্টনার মাহমুদ হোসাইন কোম্পানিটির ২০২৫ সালের আর্থিক বিবরণী নিরীক্ষা শেষে প্রকাশ করেছেন এসব তথ্য।
নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ হিসাব বছরে ফনিক্স ফাইন্যান্সের নিট লোকসান হয়েছে ৩৩৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা। আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালে লোকসানের পরিমাণ আরও বেশি অর্থাৎ ৮০৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা ছিল।
বছরের পর বছর চলা ধারাবাহিক লোকসানের নেতিবাচক প্রভাবে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির নিট সম্পদের পরিমাণ সম্পূর্ণ ঋণাত্মক হয়ে ১ হাজার ৬৯৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকায় নেমে এসেছে। ভবিষ্যতে কোম্পানিটি স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবে কি না, তা যাচাই করতে নিরীক্ষক সম্পদ ও দায়ের মেয়াদভিত্তিক কাঠামো পর্যালোচনা করেছেন। এতে দেখা গেছে, ভবিষ্যতে কোম্পানির তারল্য অবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে।
২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোম্পানির নিট তারল্য ঘাটতির পরিমাণ ১ হাজার ৬৮৮ কোটি ১২ লাখ ৪৭ হাজার ৩৪৬ টাকা। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ে দায় পরিশোধ ও প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান নিশ্চিত করতে বিপুল ঘাটতি রয়েছে। নিরীক্ষকের মতে, এসব পরিস্থিতি কোম্পানিটির ভবিষ্যতে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতার ওপর গুরুত্বপূর্ণ অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। আর্থিক বিবরণী চলমান প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রস্তুত করা হলেও তা নির্ভর করছে জরুরি ভিত্তিতে আয় বাড়ানোর পদক্ষেপ সফল হওয়া এবং অতিরিক্ত মূলধন সংগ্রহের ওপর।
কোম্পানিটির মূলধন পরিস্থিতি চরম সংকটাপন্ন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০১০ সালের ২ আগস্টের সার্কুলার এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মূলধন পর্যাপ্ততা ও বাজার শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত নির্দেশনা অনুযায়ী, ফনিক্স ফাইন্যান্সের ন্যূনতম মোট মূলধন ও মূলধন সংরক্ষণ বাফার মিলিয়ে ১০ শতাংশ থাকার কথা। কিন্তু কোম্পানিটির এই হার নেমে গেছে ঋণাত্মক ১০৯ দশমিক ৬৮ শতাংশে। অর্থাৎ যেখানে ন্যূনতম ১০ শতাংশ মূলধন থাকার কথা, সেখানে কোম্পানির মূলধন পর্যাপ্ততায় বিশাল ঘাটতি রয়েছে।
আর্থিক অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি হিসাবরক্ষণেও অসংগতি মিলেছে। ফনিক্স ইন্স্যুরেন্সের সঙ্গে যৌথ মালিকানায় দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকায় কোম্পানিটির একটি আটতলা ভবন রয়েছে। ভবনটির প্রথম তলার অর্ধেক, প্রায় ৪ হাজার ৩৫১ বর্গফুট জায়গা নিজেদের শাখা, শেয়ার বিভাগ ও গুদাম হিসেবে ব্যবহার করে বাকি অংশ ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এই ভাড়া থেকে ২০২৫ সালে ১ কোটি টাকা আয় হলেও, ভাড়ায় চালিত অংশটিকে বিনিয়োগ সম্পত্তি হিসেবে না দেখিয়ে পুরো ভবনটিকে স্থায়ী সম্পদ দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া আয়কর রিটার্নে কম কর দেখিয়ে সেই পরিমাণ পরিশোধ করলেও, অতিরিক্ত রাখা ২ কোটি ৪৬ লাখ টাকার করের প্রভিশন সমন্বয় করা হয়নি।







