কর্মসংস্থানে বিনিয়োগ ১৬ হাজার কোটি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবা খাতের উন্নয়নে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে চলতি অর্থবছর থেকে সাতটি সুনির্দিষ্ট কৌশলগত লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ খাতে আগামী তিন অর্থবছরে সম্ভাব্য সরকারি বিনিয়োগ ধরা হয়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪ হাজার ৮৪২ কোটি টাকা। পরিকল্পনা বিভাগের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে এসব তথ্য। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
পরিকল্পনা কমিশনের মতে, শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবা খাত বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। দ্রুত শিল্পায়নের মাধ্যমে এটি দেশের উদীয়মান অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই খাতের উন্নয়ন টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি)-এর ৮ নম্বর লক্ষ্য (শোভন কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি) এবং ৯ নম্বর লক্ষ্য (শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো) অর্জনে সহায়ক। এ ছাড়া বাংলাদেশকে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার লক্ষ্য পূরণে এটি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। মূলত এ কারণেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপিতে এ খাতের উন্নয়নে দেওয়া হয়েছে বিশেষ গুরুত্ব।
পরিকল্পনা সচিব এসএম শাকিল আকতার আগামীর সময়কে বলেছেন, চলতি অর্থবছর এসব কৌশলগত লক্ষ্য সামনে রেখেই এডিপিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী অর্থবছরগুলোতেও পরিকল্পিত বরাদ্দ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে, উন্নয়ন প্রকল্প যাতে যথাসময়ে বাস্তবায়ন হয়, সেজন্য করা হবে বিশেষ নজরদারি।
কৌশলগত উন্নয়ন লক্ষ্য: নির্ধারিত কৌশলগত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে— অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করা, কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, শ্রমশক্তি ও পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বহুমুখীকরণ। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়ন, উচ্চতর প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানবসম্পদ ও দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং বেসরকারি খাতকে শিল্প স্থাপনে উৎসাহিত করার বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপিতে শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবা খাতের চলমান প্রকল্পগুলোর আওতায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— রাসায়নিক সারের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান কারখানাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দেশব্যাপী বাফার গোডাউন নির্মাণ, চিনি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নে শিল্পনগরী স্থাপন। এ ছাড়া পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ ও সহায়ক অবকাঠামো উন্নয়ন, অনগ্রসর এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ইপিজেড) আধুনিকায়ন এবং শিল্প কারখানায় শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পোশাক শিল্পের উন্নয়ন, দেশীয় পণ্যের মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করে রপ্তানি বৃদ্ধি, ই-কমার্সের প্রসার এবং দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিতেও সহায়তা করবে সরকার।
চলতি অর্থবছরের বরাদ্দ ও তিন অর্থবছরের প্রক্ষেপণ: চলতি অর্থবছরে ৮টি উপখাতের ৫১টি প্রকল্পের অনুকূলে ৪ হাজার ৮৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ২ হাজার ৫৫৭ কোটি ৩৮ লাখ, বৈদেশিক ঋণ থেকে ১ হাজার ৬৮৮ কোটি ৭৪ লাখ এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৫৯৬ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। চলতি অর্থবছরের মধ্যেই সাতটি প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এ ছাড়া অনুমোদন ও বরাদ্দহীনভাবে এডিপির ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে আরও ৬৮টি নতুন প্রকল্প।
আগামী তিন বছরের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরের এডিপিতে এ খাতে সম্ভাব্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা। একইভাবে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ৫ হাজার ৩১৮ কোটি এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে বরাদ্দের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৮৫০ কোটি
টাকা।






