প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা
বেইল আউট করতে আইএমএফের ঋণ নেয় ক্ষমতাচ্যুত সরকার
- ঋণের ফাঁদে পড়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ: ড. মোস্তাফিজুর রহমান

ছবি: আগামীর সময়
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার ‘বেইল আউট’ করতে দ্বারস্থ হয় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ)। সংস্থাটির কাছ থেকে ঋণ নিয়ে জিম্মি দেশের মানুষ। কঠিন শর্ত পালন করতে গিয়ে বার বার দৌড়াতে হচ্ছে সংস্থার কাছে।
শনিবার ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত অর্থনৈতিকসংক্রান্ত সেমিনারে এ কথা বলছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
প্রসঙ্গত, ‘বেইল আউট’ হলো দেউলিয়া বা চরম আর্থিক সংকটে পড়া কোনো রাষ্ট্রকে অন্য কোনো বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থের জোগান দিয়ে বাঁচিয়ে তোলার প্রক্রিয়া।
ঢাকায় যখন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা আইএমএফ ঋণের সমালোচনা করছেন, একই সময়ে সংস্থাটির কাছ থেকে ঋণের কিস্তি পেতে ওয়াশিংটন ডিসিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। দুদিন ধরে নানা বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন সেখানে।
‘সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, আর্থিক সক্ষমতা ও সরকারের ১৮০ দিনের কর্ম-পরিকল্পনা’ শীর্ষক সেমিনারটিতে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফের প্রেসিডেন্ট দৌলত আক্তার মালা। সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর মন্তব্য করেন, ‘জনগণের কাছে দায়বদ্ধ ছিল না পতিত সরকার। তাদের (জনগণ) মাধ্যমে নির্বাচিত হওয়ার দরকার ছিল না। ফলে চুক্তি করেছে আইএমএফের সঙ্গে। সেখানে কি শর্ত ছিল— তার চেয়ে বড় ছিল সংস্থার কাছ থেকে অর্থ পাওয়া। ফলে অনেক ঋণ নিতে রাজি হয় কঠিন শর্তে।’
বর্তমান সরকার শেষ প্রান্তিকে যাত্রা শুরু করেছে ৩ শতাংশ জিডিপি নিয়ে। এখন রাজস্ব জিডিপির ৯ শতাংশ অর্জন করতে বলছে আইএমএফ। এটি কীভাবে সম্ভব? প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টার।
জ্বালানি তেল প্রসঙ্গে তিনি বলছিলেন, ‘জনবান্ধব সরকার এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও বাড়ায়নি জ্বালানি তেলের দাম। বিগত সরকারের মতো মূল্য সমন্বয় করলে মূল্যস্ফীতি আরও উসকে যেত, এতে নতুন করে গরিব হতো অনেক মানুষ। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।’
‘জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলে বাড়বে বিনিয়োগ। এ জন্য চাল ও গমের মতো মজুদ থাকা দরকার ছিল জ্বালানি। কিন্তু জ্বালানি মজুদ গড়ে তোলা নিয়ে বিগত সময়ে ছিল না কোনো উদ্যোগ। বিদ্যমান সমস্যা সমাধান করতে স্বল্প ও মেয়াদি পরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার। এ ক্ষেত্রে সরকার নীতি সহায়তা, রেগুলেটরি তদারকি ও রাজস্বনীতির সহায়তায় মাধ্যমে গড়ে তোলা হবে জ্বালানি নিরাপত্তার মজুদ।’
আগে লুটপাটের লক্ষ্যে নেওয়া প্রতিটি প্রকল্প পর্যালোচনা হচ্ছে। বিবেচনায় বন্ধ কলকারখানাও। উপদেষ্টার ভাষ্য, ‘এ ব্যাপারে একটি বড় ধরনের প্যাকেজ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখানে বন্ধ শিল্পকারখানা চালু করতে পুনঃঅর্থায়ন, ব্যাংক ঋণসুবিধা ও নীতি সহায়তা পরিবর্তন করতে পারে। আমরা মনে করি দেশে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ না বাড়লে আসবে না বৈদেশিক বিনিয়োগ।’
ইআরএফ কার্যালয়ে আয়োজিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান। তার দাবি, ‘ঋণের ফাঁদে পড়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে বড় অঙ্কের ঋণের ঘরে চলে গেছে দেশ। এখন শিক্ষা খাতের চেয়ে বেশি ব্যয় হচ্ছে ঋণ ও সুদ পরিশোধে।’
ব্যাংক খাত ঠিক না হলে বিনিয়োগ আসবে না— এমন তথ্য তুলে ধরে মোস্তাফিজ বলছিলেন, ‘এখন বিনিয়োগ আনা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও এলডিসি উত্তরণের মতো বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে এ সরকারকে।’
বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে প্রতিটি কারখানায় সোলার প্যানেল ব্যবহারে জোর দেন তৈরি পোশাকশিল্পের সংগঠন বিজিএমইএর প্রেসিডেন্ট মাহমুদ হাসান খান। তিনি জানাচ্ছিলেন, প্রয়োজনে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ভর্তুকি দেওয়া হবে সংশ্লিষ্ট শিল্পকারখানাকে। কারণ এখন আমাদের বিদ্যুৎ সংকট চলছে।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বিকেএমইএর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম, ফুটওয়্যার লেদারগুডস অ্যান্ড এক্সেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মো. রফিকুল ইসলাম।

