স্বল্পমূল্যে মিলবে প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা
- স্থাপন হবে ৫ নিউক্লিয়ার মেডিসিন সেন্টার
- রবিবার একনেকে উঠছে ৫৩৫ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব

সংগৃহীত ছবি
পাঁচ জেলায় স্থাপন হবে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পাঁচটি নিউক্লিয়ার মেডিসিন সেন্টার। জেলাগুলো হচ্ছে টাঙ্গাইল, সুনামগঞ্জ, নোয়াখালী, পটুয়াখালী ও কিশোরগঞ্জ। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের স্বল্পমূল্যে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির চিকিৎসা দিতেই এমন উদ্যোগ। এসব সেন্টারের মাধ্যমে থাইরয়েড, কিডনি, লিভার, হৃদরোগ, বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারসহ জটিল রোগের আধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। এজন্য ‘মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস নির্মাণ’ শীর্ষক একটি নতুন প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৩৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। আগামী রবিবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এটি উপস্থাপন করা হচ্ছে। অনুমোদন পেলে ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পরমাণু প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জনগণের জন্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিউক্লিয়ার মেডিসিনের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ করা হবে।
পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আকতার আগামীর সময়কে বলেছেন, নিউক্লিয়ার প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসাসেবা বেশ ব্যয়বহুল। সাধারণ মানুষের জন্য এ ব্যয় বহন করা কষ্টকর। সেদিক থেকে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে জনগণের দোরগোড়ায় নিউক্লিয়ার মেডিসিন সেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, দেশের সাধারণ ও সুবিধাবঞ্চিত জনগণের দোরগোড়ায় আধুনিক সাশ্রয়ী ও মানসম্মত নিউক্লিয়ার মেডিসিন সেবা পৌঁছে দিয়ে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসেবায় সমতা
নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিশেষজ্ঞ জনবল তৈরি ও গবেষণা করা হবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ১৯৬০ সাল থেকে দেশে পরমাণু প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ক্যাম্পাসে ২২টি ইনমাস স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস (নিনমাস) রয়েছে।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন জেলার ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যা ও স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে অন্যান্য মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ক্যাম্পাসেও ইনমাস স্থাপন করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, রাঙামাটি, নোয়াখালী ও পটুয়াখালীতে নতুন ইনমাস স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পর পাঁচ জেলায় জমি বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এর ভিত্তিতেই পাঁচটি নতুন ইনমাস স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে।



