ভবন নির্মাণে ব্যয় হবে মোটা অঙ্ক
- উন্নয়ন প্রকল্পে কোডভিত্তিক বরাদ্দ নির্ধারণ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক কোডভিত্তিক বরাদ্দ নির্ধারণ করেছে পরিকল্পনা কমিশন। এতে দেখা যায়, বিভিন্ন ভবন নির্মাণেই সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হবে। সর্বোচ্চ খরচ অনাবাসিক ভবন নির্মাণ খাতে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতাভুক্ত সংশ্লিষ্ট কোডে বরাদ্দ ২৯ হাজার ৫২৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। অন্যান্য ভবন মিলে মোট খরচ ৪২ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা। অন্যদিকে সবচেয়ে কম বরাদ্দ বিচারিক ভাতা কোডে, মাত্র ২ হাজার টাকার প্রস্তাবনা।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপির আওতায় ৩১৫টি কোডে বরাদ্দ ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ৯৮ হাজার ৭৮৫ কোটি, বৈদেশিক ঋণ ৮২ হাজার ৯২৬ এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৮ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগের প্রধান (অতিরিক্ত সচিব) মুসরাত মেহজাবীন আগামীর সময়কে বলেছেন, এ সিস্টেমটা আগে ছিল না, এখন যুক্ত হয়েছে। এই কোডভিত্তিক বরাদ্দের অর্থ হলো এডিপির আওতায় বরাদ্দসহ যেসব প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত সেগুলোর মধ্যে বেতন-ভাতা কোডে মোট কত ব্যয় হবে, সেটি দেওয়া হয়েছে। আবার ধরেন, আপনি জানতে চান— প্রশিক্ষণ খাতে কত বরাদ্দ আছে, এই কোডভিত্তিক বরাদ্দ দেখলেই সব প্রকল্প মিলে কত যাবে, সেটি ধারণা পাবেন। এটি অনেক ভালো পদ্ধতি।
সরকার চাচ্ছে আগামীতে এ ধরনের ভবনসম্পর্কিত ব্যয় থেকে বেরিয়ে আসতে
মুসরাত মেহজাবীন জানালেন, ভবন নির্মাণে বেশি খরচ হচ্ছে, এর মানে এই নয় যে, প্রকল্পের সব টাকাই এ খাতে খরচ হবে। তবে এটি সবচেয়ে বড় অংশ। সরকার চাচ্ছে আগামীতে এ ধরনের ভবন সম্পর্কিত ব্যয় থেকে বেরিয়ে আসতে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দসহ মোট প্রকল্প রয়েছে ১ হাজার ১২১টি। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ৯৪৯টি, সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ২২টি, কারিগরি সহায়তা ১০৭টি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নের প্রকল্প ৪৩টি। এসব প্রকল্পে কোন খাতে কত বরাদ্দ ধরা হয়েছে, সেটি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে কোডভিত্তিক পরিকাঠামোতে।
প্রকল্পগুলোর আওতায় আগামী অর্থবছর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খরচ হবে সড়ক মহাসড়ক কোডে ১৩ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকা। তৃতীয় অবস্থানে আছে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামে ১২ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। ভূমি অধিগ্রহণে ১০ হাজার ৫৮০ কোটি, স্যানিটেশনে ৮ হাজার ২৯৮ কোটি, আবাসিক ভবনে ৭ হাজার ৩৪ কোটি এবং পরামর্শক কোডে খরচ হবে ৬ হাজার ৪১৫ কোটি টাকা। খাদ্য কোডে ২ হাজার ১৬০ কোটি, প্রশিক্ষণ ও মজুরি কোডে ১ হাজার ৭৪ কোটি, ড্রেনেজে ৩ হাজার ১০৫ কোটি, অন্যান্য ভবন ও স্থাপনায় ৬ হাজার ৪১৪ কোটি, বাঁধ নির্মাণে ৫ হাজার ৭৬৯ কোটি, প্রকৌশল যন্ত্রপাতিতে ৩ হাজার ২৬১ কোটি এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতিতে ৪ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে।
এডিপি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে অফিসারদের মূল বেতন দিতে খরচ হবে ২৩০ কোটি, ব্যক্তিগত বেতনের পেছনে ৫২ লাখ এবং বিশেষ বেতনের জন্য ২ লাখ টাকা। কর্মচারীদের মূল বেতনের জন্য যাবে ৬৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। মোবাইল ফোনে খরচ হবে ২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া অডিও-ভিডিও ও চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য খরচ হবে ২৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। বইপত্র ও সাময়িকীতে ২১ কোটি ৮০ লাখ, অফিস ভবন ভাড়ায় ৮৩ কোটি ৫৭ লাখ, যাতায়াতে যাবে ২৫ কোটি ২৩ লাখ এবং বৈদেশিক প্রশিক্ষণে ৩০ লাখ, অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণে ১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এ ছাড়া জন্মনিরোধক সামগ্রী কিনতে খরচ যাবে ৯৫৫ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্টরা জানালেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট কোডভিত্তিক টাকা খরচ করতে হয়, আগামী অর্থবছরের জন্য মোট ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৪ কোটি টাকার এডিপির চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। সম্প্রতি এটি এনইসিতে অনুমোদন পেলেও চলতি মাসে জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় এডিপির বিষয়টি তুলে ধরবেন অর্থমন্ত্রী।




