ব্যবসায়ী ও আইনজীবীদের এনবিআর চেয়ারম্যান
কর্মকর্তাদের এক টাকাও ঘুষ দেবেন না

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে এক টাকাও ঘুষ না দিতে ব্যবসায়ী ও আয়কর আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব।
তিনি বলেছেন, কোনো কর্মকর্তা অনিয়ম বা ঘুষ দাবি করলে সরাসরি তাকে জানানোর পাশাপাশি বিষয়টি এনবিআরকে অবহিত করতে হবে। করদাতাদের হয়রানি বন্ধে এনবিআর কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ঢাকা ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশনের নতুন কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে আয়কর আইনজীবীরা অভিযোগ করলেন, তাৎক্ষণিক টাকা না দিলে অনেক সময় কর্মকর্তারা ফাইলে স্বাক্ষর করতে চান না। জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বললেন, কোনো কর্মকর্তা অনিয়ম করলে বিষয়টি তাকে জানাতে হবে। এ ধরনের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানালেন, করদাতাদের সঙ্গে এনবিআর কর্মকর্তাদের সরাসরি যোগাযোগ কমিয়ে আনতে কাজ চলছে। ২০২৯ সালের মধ্যে দেশে পুরোপুরি পেপারলেস ও ফেসলেস কর-ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য রয়েছে।
‘আপনি বাসায় বসে রিটার্ন দেবেন, বাসায় বসে রিফান্ড নেবেন এবং বাসায় বসেই অডিটের জবাব দেবেন। এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করতে চাই, যেখানে করদাতা ও কর্মকর্তার মধ্যে কোনো শারীরিক যোগাযোগ থাকবে না’— বললেন তিনি।
এনবিআর চেয়ারম্যান বললেন, ডিজিটাল কর-ব্যবস্থার মাধ্যমে করদাতাদের ভোগান্তি কমানোর পাশাপাশি দুর্নীতির সুযোগও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। কর্মকর্তাদের সঙ্গে করদাতাদের সরাসরি যোগাযোগ যত কমবে, অনিয়মের সুযোগও তত কমবে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার কথা উল্লেখ করে তিনি বললেন, ‘আমার ওপর দুটি ভার— একটি আইআরডি সচিবের, অন্যটি এনবিআর চেয়ারম্যানের। তবে সবচেয়ে বড় ভার হলো ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতার কোনো সুযোগ নেই।’
তিনি বললেন, এত বড় রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের মধ্য দিয়ে সরকার এনবিআর, আয়কর বিভাগ, ভ্যাট বিভাগ, কাস্টমস ও আয়কর আইনজীবীদের ওপর আস্থা রেখেছে। সেই আস্থার প্রতিদান দিতে সবাইকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।



