নবম পে স্কেল
অর্থমন্ত্রীর টেবিলে ঐক্য পরিষদের প্রস্তাব
- বেতন গ্রেড ২০টির পরিবর্তে ১২টি চাওয়া হয়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো ২০টির পরিবর্তে ১২টি গ্রেডের প্রস্তাব দিয়েছে ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’। এতে সর্বনিম্ন গ্রেড অর্থাৎ ১২তম স্কেলের বেতন ৩৫ হাজার ও প্রথম গ্রেড ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কােছ গত মঙ্গলবার এ প্রস্তাব জমা দিয়েছে সংগঠনটি। যদিও নবম জাতীয় পে স্কেল কাঠামো চূড়ান্ত করে সচিব কমিটি পেশ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে। পরে সেটি পর্যালোচনার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয় অর্থমন্ত্রীকে।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের প্রস্তাব গ্রহণকালে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, শিগগিরই গেজেট প্রকাশ করা হবে নবম বেতনকাঠামোর। এখন পর্যালোচনা চলছে। যদিও অর্থনীতির অবস্থা ভালো নয়, এরপরও বেতন স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে।
বর্তমান সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোর অনুপাত ১:১০, কিন্তু নবম বেতন কাঠামোর অনুপাত ১:৪ করতে হবে বলে আগামীর সময়কে বলেছেন সরকারি কর্মচারীদের দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী। তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিন নিম্ন আয়ের চাকরিজীবীরা বৈষম্যের শিকার। এটি দূর করতে হবে।
বর্তমান অষ্টম পে স্কেলে ২০টি গ্রেড রয়েছে। ঐক্য পরিষদ যে প্রস্তাব দিয়েছে সেখানে দ্বিতীয় গ্রেডের বেতন ১ লাখ ২৫ হাজার, তৃতীয় গ্রেডের ১ লাখ ১০ হাজার, চতুর্থ গ্রেডের ৯৫ হাজার ও পঞ্চম গ্রেডে ৮০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে বলা হয়। তবে ষষ্ঠ ও সপ্তম গ্রেড সমন্বয় করে ষষ্ঠ গ্রেড নির্ধারণে এবং বেতন কাঠামো ৭৫ হাজার, অষ্টম ও নবম গ্রেড সমন্বয় করে সপ্তম েগ্রড নির্ধারণ এবং বেতন ৭০ হাজার টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া দশম ও ১১তম গ্রেডকে অষ্টম গ্রেডে সমন্বয় করে বেতন ৬৫ হাজার, ১২তম ও ১৩তম গ্রেডকে সমন্বয় করে নবম গ্রেড নির্ধারণ করে বেতনের প্রস্তাব করা হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। দশম গ্রেড (১৪, ১৫ ও ১৬ গ্রেড সমন্বয়) ৫০ হাজার, ১১তম গ্রেড ৪২ হাজার টাকার প্রস্তাব করা হয়।
সূত্রমতে, বাজার নিয়ন্ত্রণে না থাকায় বর্তমানে যে ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) দেওয়া হয়, তা লাগামহীন মূল্যস্ফীতির কাছে অপ্রতুল। তাই প্রতি বছর ইনক্রিমেন্ট ৫ শতাংশের পরিবর্তে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়। এ ছাড়া পাহাড়ি, হাওর ও উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য ভাতা ৪০ শতাংশ এবং ঝুঁকিভাতা ৭৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫০০ টাকা করার দাবি জানানো হয়। প্রস্তাবে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের পেনশন ৮০ শতাংশের জায়গায় ১০০ শতাংশ এবং আনুতোষিকের হার ১:৫০০ টাকা, প্রবীণ বয়সে শারীরিক অসুস্থতা ও চিকিৎসার ব্যয় বিবেচনা করে অবসরপ্রাপ্তদের চিকিৎসা ভাতা ২ হাজার ৫০০ থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা এবং স্বায়ত্তশাসিত দপ্তরেও অবিলম্বে পেনশন চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া কর্মচারীদের অবসরের বয়স বর্তমান ৫৯ থেকে বাড়িয়ে ৬২ বছর করার যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়েছে। দেশের মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর চাকরি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই এ দাবি জানানো হয়। আর বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ, আবাসন সংকট নিরসনে মাত্র ৫ শতাংশ সুদে সহজ কিস্তিতে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফ্ল্যাট/গৃহনির্মাণ ঋণের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সর্বশেষ প্রস্তাবে কর্মজীবনের পদোন্নতি নিশ্চিত করতে সব ধরনের ‘ব্লক পোস্ট’ বাতিল এবং সচিবালয়ের মতো অন্যান্য দপ্তরেও পদবি পরিবর্তন ও অভিন্ন নিয়োগবিধি চালুর আহ্বান জানানো হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বেতনকাঠামো নিয়ে সাধারণত তিনটি পর্যায়ে কাজ হয়। প্রথম পর্যায়ে পে সার্ভিস কমিশন বা সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পে কমিটি এবং বিচার বিভাগের ক্ষেত্রে জুডিশিয়াল পে কমিশন তাদের প্রতিবেদন দিয়েছে। এসব প্রতিবেদনের মধ্যে প্রথম দুটির বিষয় সচিব কমিটি পর্যালোচনা করে সুপারিশ দিয়েছে। বিচার বিভাগের পে স্কেলের জন্য মন্ত্রিপরিষদ গঠিত একটি কমিটি রয়েছে। ওই কমিটির প্রথম সভাও হয়েছে। বাংলাদেশের বাস্তবতা, বিষয়টির সংবেদনশীলতা এবং সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা বিবেচনায় নিয়ে কমিটি তাদের প্রতিবেদন দেবে। এর মাধ্যমে পে স্কেল প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় পর্যায় শেষ হবে। এরপর তৃতীয় পর্যায়ে মন্ত্রিসভা সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করবে। কোন কোন বিষয় কবে থেকে বাস্তবায়ন করা হবে, সে সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকেই হবে।






