একীভূতকরণে বিএসইসির ‘নো অবজেকশন’ শক্তিশালী হবে ওয়ালটনের ব্যবসা

সংগৃহীত ছবি
দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ইলেকট্রনিক্স খাতের জায়ান্ট কোম্পানি ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির সঙ্গে প্রযুক্তিপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রস্তাবিত একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় বড় অগ্রগতি হয়েছে।
রবিবার ১৫ মার্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এই একীভূতকরণ বিষয়ে ‘নো অবজেকশন’ বা অনাপত্তি পত্র জারি করেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ এই একীভূতকরণের স্কিম অনুমোদন করে। এই প্রক্রিয়ায় ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ হবে অধিগ্রহণকারী এবং ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড হবে অধিগৃহীত প্রতিষ্ঠান। তবে চূড়ান্তভাবে একীভূতকরণ কার্যকর হতে হলে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন, ঋণদাতাদের সম্মতি ও সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমতি প্রয়োজন হবে।
ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ দেশের ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল শিল্পের প্রধানতম প্রতিষ্ঠান। কোম্পানিটি ফ্রিজ, এয়ার কন্ডিশনার, টেলিভিশন, কম্প্রেসর, লিফট, ফ্যান এবং হোম অ্যাপ্লায়েন্স উৎপাদন ও বিপণন করে। দেশীয় বাজারের প্রায় ৭৫ শতাংশের বেশি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক দেশে পণ্য রপ্তানি করে তারা।
অন্যদিকে, ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড মূলত আইটি ও ডিজিটাল ডিভাইসের ওপর বিশেষায়িত। কোম্পানিটি ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, মনিটর, স্মার্টফোন, প্রিন্টার, নেটওয়ার্কিং ডিভাইস ও প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ডসহ (পিসিবি) শতাধিক হাই-টেক পণ্য তৈরি করে। দেশের প্রথম মোবাইল ফোন ও পিসিবি উৎপাদনকারী কারখানা হিসেবে এটি ইতোমধ্যে নিজস্ব পরিচিতি গড়ে তুলেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দুই প্রতিষ্ঠান একত্রিত হলে ওয়ালটনের সামগ্রিক ব্যবসায়িক কাঠামো আরও সুসংহত হবে। শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি দীর্ঘমেয়াদে বড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
একীভূত হওয়ার ফলে ইলেকট্রনিক্স ও আইটি পণ্য একই ছাতার নিচে চলে আসবে, যা কোম্পানির পোর্টফোলিওকে আরও বৈচিত্র্যময় করবে। দুটি আলাদা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক, লজিস্টিক ও বিপণন ব্যয় একীভূত হয়ে যাওয়ায় খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমবে। এর ফলে কোম্পানির নিট মুনাফার মার্জিন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওয়ালটন হাই-টেকের শক্তিশালী ব্যালেন্স শিটের সঙ্গে ডিজি-টেকের ক্রমবর্ধমান প্রবৃদ্ধি যুক্ত হলে কোম্পানির সম্পদ ও রাজস্বের আকার কয়েক গুণ বাড়বে।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ওয়ালটন হাই-টেকের বর্তমান আর্থিক অবস্থান বেশ দৃঢ়, যা একীভূতকরণের পর আরও স্থিতিশীল হবে। দুই কোম্পানির প্রযুক্তি ও গবেষণা বিভাগ একত্রিত হওয়ার ফলে উদ্ভাবনী ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তিপণ্য বিশ্ববাজারে আরও শক্তভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে, যা রপ্তানি আয়ে বড় অবদান রাখবে।
ডিএসই’র সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের অনুমোদিত মূলধন ৬০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৩৩ কোটি ২২ লাখ টাকা। একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার এই অগ্রগতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করেছে। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপরই নির্ভর করছে এই একীভূতকরণের পূর্ণ সুবিধা কবে নাগাদ শেয়ারহোল্ডারদের কাছে পৌঁছাবে।
মজবুত আর্থিক ভিত্তির এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওয়ালটন ডিজি-টেক একীভূত হলে সামগ্রিক সম্পদ ও মুনাফার পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।






