বিএসইসিতে বসবেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তানভীর গনি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনির জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) একটি দাপ্তরিক কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের দশম তলায় বরাদ্দ হওয়া কক্ষে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও অফিস সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছে। তিনি মাঝেমধ্যে সেখানে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
রবিবার দুপুর ১টার দিকে তানভীর গনি বিএসইসি কার্যালয়ে আসেন। এ সময় তিনি প্রথমে বিএসইসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও কমিশনার তানভীর হাবিব রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে কমিশনের নির্বাহী পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিয়ে দেশের শেয়ারবাজারের সার্বিক পরিস্থিতি, চলমান সংস্কার কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে বিএসইসির পক্ষ থেকে বাজারের বর্তমান অবস্থা, নিয়ন্ত্রক কার্যক্রম এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে নেওয়া উদ্যোগগুলো তুলে ধরা হয়। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি কমিশনে বরাদ্দ পাওয়া নিজ কক্ষ পরিদর্শন করেন এবং কিছু সময় সেখানে অবস্থান করেন।
জানা গেছে, শেয়ারবাজার-সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণী কার্যক্রম, সংস্কার উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয় জোরদারে তিনি মাঝেমধ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। পেশাগত জীবনে তানভীর গনি হংকংভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান টাইবোর্ন ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের প্রেসিডেন্ট ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা। হেজ ফান্ড ও প্রাইভেট ইকুইটি খাতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এ বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজার, বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা এবং কৌশলগত পরামর্শ প্রদানে সুপরিচিত।
গত ২ এপ্রিল তিনি বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের শেয়ারবাজার সংস্কার ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে বিএসইসির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার রোডম্যাপ মূল্যায়ন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আন্তর্জাতিক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং দেশের শেয়ারবাজারকে বৈশ্বিক বিনিয়োগ মানচিত্রে আরও দৃশ্যমান করে তোলার প্রচেষ্টা।
এ ছাড়া তিনি ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভা করে বাজারের আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সিএসইতে দেশের প্রথম কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর প্রস্তুতি, হেজিং সুবিধা সম্প্রসারণ এবং কমোডিটি ডেরিভেটিভস মার্কেট গঠনের বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন।
শেয়ারবাজারকে আরও গতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব করতে অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক জটিলতা কমিয়ে ধাপে ধাপে স্বনিয়ন্ত্রিত কাঠামোর দিকে এগিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তানভীর গনি। একই সঙ্গে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আর্থিক সাক্ষরতা বৃদ্ধি, সচেতনতামূলক কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং নিষ্ক্রিয় মিউচুয়াল ফান্ডগুলোকে সক্রিয় করার ওপরও তিনি জোর দিচ্ছেন।




