আইসিবি ইসলামীক ব্যাংকের লোকসান বেড়েছে ১৯ কোটি টাকা

সংগৃহীত ছবি
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আইসিবি ইসলামীক ব্যাংক পিএলসির চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন ২০২৬) লোকসান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ঋণের বিপরীতে উচ্চ হারে প্রভিশন সংরক্ষণ, দুর্বল আয় এবং সার্বিক আর্থিক চাপের প্রভাবে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) ও মোট নিট লোকসান—উভয়ই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
ব্যাংকটির প্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) থেকে এসব জানা গেছে।
প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) হয়েছে ০.৭২ টাকা। এ সময়ে ব্যাংকটির মোট নিট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৭ কোটি ৬১ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ০.৪২ টাকা এবং মোট লোকসানের পরিমাণ ছিল ২৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির লোকসান বেড়েছে ১৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, যা প্রায় ৬৯ শতাংশ বেশি।
অন্যদিকে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন ২০২৬) ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ০.৩৫ টাকা। এ সময়ে মোট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। ২০২৫ সালের একই প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ০.২৮ টাকা এবং মোট লোকসান ছিল ১৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। ফলে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকটির লোকসান বেড়েছে ৫ কোটি ১০ লাখ টাকা বা প্রায় ২৮ শতাংশ।
আর্থিক অবস্থার দিক থেকেও ব্যাংকটি চাপে রয়েছে। চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত ব্যাংকটির মোট নিট সম্পদের (নেট অ্যাসেট) পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ১ হাজার ৫১০ কোটি টাকা। ফলে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) নেমে এসেছে ঋণাত্মক ২২.৭২ টাকায়। ঋণাত্মক নিট সম্পদ ব্যাংকটির মূলধন পরিস্থিতির দুর্বলতাকেই নির্দেশ করে এবং এটি প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিক লোকসান, ঋণাত্মক নিট সম্পদ এবং মূলধনের ঘাটতি ব্যাংকটির আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। ভবিষ্যতে সম্পদের গুণগত মান উন্নয়ন, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচালন মুনাফা বৃদ্ধির মাধ্যমে ব্যাংকটিকে এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উদ্যোগ নিতে হবে।




