সরকারের ১৮০ দিন
নিয়ন্ত্রণে কেটেছে ছয় মাস প্রতিফলন কম
- শেয়ারবাজার পরিস্থিতি

সংগৃহীত ছবি
সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় দেশের শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানো, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘদিনের দুর্বলতা দূর করতে একাধিক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। মূলত বাজার নিয়ন্ত্রণ করতেই কমিশনের কেটেছে ছয় মাস। তবে এ সময়ের মধ্যে সূচক ও লেনদেনে কিছুটা গতি ফিরলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী আসেনি ভালো মৌল ভিত্তিসম্পন্ন সরকারি বা বহুজাতিক কোম্পানি। ফলে সংস্কার কার্যক্রম দৃশ্যমান হলেও বাস্তব প্রতিফলনের দেখা মেলেনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন মনে করছেন, শুধু উদ্যোগ নয়, এর বাস্তব প্রয়োগ আরও জোরালো হওয়া দরকার। হুটহাট নীতি পরিবর্তনের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। শুধু বক্তব্যের মধ্যে সংস্কার সীমাবদ্ধ না রেখে বাজারে প্রতিফলন থাকা অত্যন্ত জরুরি।
বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান আগামীর সময়কে বলেছেন, শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা আনা, বিনিয়োগকারীর অর্থ সুরক্ষা, ব্রোকারদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, আধুনিক সার্ভেইল্যান্স ব্যবস্থা এবং বিধিমালা সংস্কারে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আইপিও, সরাসরি তালিকাভুক্তি, মার্জিন ঋণ, মিউচুয়াল ফান্ড ও বন্ড বাজারের বিধিমালা সংস্কারে কাজ চলছে। এর মধ্যে নেওয়া পদক্ষেপে বাজার সাড়া দিচ্ছে।
সরকার গঠনের পর বিএসইসির নেওয়া বেশ কিছু সংস্কার উদ্যোগ ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। দেখা গেছে, গত ছয় মাসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ডিএসইএক্স সূচক ৫.৬২ শতাংশ বেড়েছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি ডিএসইএক্স সূচক ছিল ৫ হাজার ৫৭০.৫৯ পয়েন্টে। আর ১৬ আগস্ট সূচকটি অবস্থান করছে ৫ হাজার ৮৫৯.৯৭ পয়েন্টে। ফলে আলোচ্য সময়ে সূচক বেড়েছে ২৮৯.৩৯ পয়েন্ট বা ৫.১৯ শতাংশ। দৈনিক গড় লেনদেনও আগের ছয় মাসের চেয়ে বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৩৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে একই সময়ে কিছুটা কমেছে বাজার মূলধন।
বিগত ছয় মাসে বিএসইসির নেওয়া উল্লেখযোগ্য উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে চার বছর পর ইসলামী ব্যাংক ও বেক্সিমকোর শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করা। পাশাপাশি অনিয়ম ও কারসাজির তথ্য প্রকাশকারীদের সুরক্ষায় হুইসেলব্লোয়ার বিধিমালার গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। মার্জিন ঋণের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন এসেছে। করপোরেট গভর্ন্যান্স গাইডলাইনে পরিবর্তনের পাশাপাশি তালিকাভুক্ত কোম্পানির অডিটে যোগ্য ফার্ম যুক্ত করার খসড়া গাইডলাইন করা হয়েছে। কোম্পানিগুলোর মার্জার, ডিমার্জার ও অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কিছু কর-প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে শেয়ারবাজারে।
ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম সংস্কারকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তার ভাষ্য, সরকার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এগোচ্ছে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরছে এবং তৈরি হচ্ছে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তির পথ।






