ট্রাস্টিদের বিএসইসির নির্দেশ
রূপান্তর বা অবসায়নের অপেক্ষায় ৩১ ক্লোজড-অ্যান্ড ফান্ড

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩১টি ক্লোজড-অ্যান্ড মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর ট্রাস্টিদের নতুন মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা অনুযায়ী ওপেন-অ্যান্ডে রূপান্তর বা অবসায়নের বিধান পালন করার নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ৯ জুন জারি করা এক চিঠিতে বিএসইসি ২০২৫ সালের মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার ৬২(২) বিধি অবিলম্বে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ক্লোজড-অ্যান্ড মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি), বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিজিআইসি) এবং গ্রামীণ ফান্ডের প্রধান নির্বাহীদের কাছে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর সংশোধিত বিধিমালাটির গেজেট প্রকাশ হয়। বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো ক্লোজড-অ্যান্ড মিউচুয়াল ফান্ডের বাজারদর যদি ছয় মাসের গড় হিসাবে তার নিট সম্পদ মূল্যের (এনএভি) তুলনায় ২৫ শতাংশের বেশি ডিসকাউন্টে লেনদেন হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী ওই ফান্ডকে ওপেন-অ্যান্ড ফান্ডে রূপান্তর করতে হবে অথবা অবসায়ন করতে হবে।
বিএসইসির হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৪টি ক্লোজড-অ্যান্ড মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩১টির নিট সম্পদ মূল্য ২৫ শতাংশের বেশি কমে গেছে। ফলে তিনটি ফান্ড বাদে সবই রূপান্তর কিংবা অবসায়ন করতে হবে। এর আগে একটি ফান্ডকে অবসায়ন ও আরেকটিকে ওপেন-অ্যান্ড ফান্ডে রূপান্তরের অনুমোদন দেয় বিএসইসি।
নিয়মানুযায়ী, গেজেট প্রকাশের পর প্রথম ছয় মাসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে ক্লোজড অ্যান্ড মিউচুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টিকে বাধ্যতামূলকভাবে রেকর্ড ডেট ঘোষণা করতে হবে। সেই হিসেবে ১২ জুন রেকর্ড ডেট প্রকাশের শেষ দিন।
কমিশনের মতে, ক্লোজ অ্যান্ড মিউচুয়াল ফান্ড লিকুইডেশনের (অবসায়ন) পরিবর্তে ওপেন-অ্যান্ডে রূপান্তর করা হলে বিনিয়োগকারীরা বেশি লাভবান হবেন। কারণ ওপেন-অ্যান্ডে কনভার্সনের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা নিট সম্পদ মূল্যের (এনএভি) ভিত্তিতে সুবিধা পাবেন, যা লিকুইডেশনের তুলনায় অধিক সুরক্ষিত ও লাভজনক। এতে বাজারেও নেতিবাচক চাপ কমবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম আগামীর সময়কে বলেন, নতুন মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার ৬২(২) বিধি অনুযায়ী তালিকাভুক্ত ক্লোজড-অ্যান্ড মিউচুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টিদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ৯ জুন কমিশন একটি চিঠি জারি করা হয়েছে।
রূপান্তরের প্রক্রিয়া
বিএসইসি এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের জন্য ধাপে ধাপে একটি সময়সূচি নির্ধারণ করেছে। ছয় মাসের সময়সীমা শেষ হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ট্রাস্টিকে একটি রেকর্ড ডেট ঘোষণা করতে হবে। এ-সংক্রান্ত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) বাংলা ও ইংরেজি জাতীয় দৈনিক, একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম এবং স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। নোটিশের সময়সীমা ১৪ থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে হতে হবে।
রেকর্ড ডেটের পর থেকে সংশ্লিষ্ট ফান্ডের ইউনিটের লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। রেকর্ড ডেটের ২১ দিনের মধ্যে বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আয়োজন করতে হবে। রূপান্তরের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য নিবন্ধিত ইউনিটধারীদের কমপক্ষে তিন-চতুর্থাংশ (৭৫ শতাংশ) ইউনিটের সমর্থন প্রয়োজন হবে। যদি ইউনিটধারীরা রূপান্তরের পক্ষে ভোট দেন, তাহলে ট্রাস্টিকে ৯০ দিনের মধ্যে পুরো রূপান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
এদিকে যেসব ফান্ড ২৫ শতাংশের বেশি ডিসকাউন্টে লেনদেনের কারণে এই বিধানের আওতায় পড়েছে, সেসব ফান্ডের ইউনিটধারীরা যদি বিশেষ সাধারণ সভায় রূপান্তরের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন, তাহলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফান্ড অবসায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে যেসব সাধারণ ক্লোজড-অ্যান্ড ফান্ড এই ডিসকাউন্ট শর্তের আওতায় পড়ে না, সেসব ফান্ডে রূপান্তর প্রস্তাব ব্যর্থ হলে বিদ্যমান সম্পদ ব্যবস্থাপকের অধীনে পরবর্তী কার্যদিবসে স্বাভাবিক লেনদেন পুনরায় চালু হবে।
রূপান্তর প্রক্রিয়ার আর্থিক প্রভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিএসইসি মোট রূপান্তর ও নতুন ইউনিট ইস্যু ব্যয় ফান্ডের আকারের সর্বোচ্চ ১ শতাংশে সীমাবদ্ধ করেছে। এর মধ্যে সম্পদ ব্যবস্থাপকের ফি সর্বোচ্চ ০.৫ শতাংশ হতে পারবে।




