মুনাফা তোলায় টানা তিন দিন চাপে বিমা খাত

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিমা খাতের শেয়ার থেকে মুনাফা তোলার প্রবণতা অব্যাহত রেখেছেন বিনিয়োগকারীরা। যার ফলে বিমা খাতে শেয়ারে বিক্রির চাপ আগের তুলনায় বাড়তে দেখা যায়। বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত দুই কার্যদিবস ধরে শেয়ারবাজার নেতিবাচক প্রবণতায় রয়েছে। আর বিমা খাতের শেয়ার এর চেয়েও দীর্ঘ সময় ধরে চাপে রয়েছে—অর্থাৎ টানা তিন কার্যদিবস ধরে খাতটির শেয়ারদর পতনের ধারায় রয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর আগে বিমা খাতের বেশ কিছু শেয়ারে টানা মূল্য বৃদ্ধি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের একাংশ এখন মুনাফা তুলে নেওয়ার দিকে ঝুঁকছেন। ফলে খাতটিতে বিক্রেতার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় দরপতনের চাপ তৈরি হয়। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা সার্বিক বাজারের নেতিবাচক ধারাকেও কিছুটা প্রভাবিত করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ডিএসইর বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, রবিবার দরপতনের শীর্ষ তালিকায় থাকা ১০ কোম্পানির মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই ছিল বিমা খাতের। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে মেঘনা ইন্স্যুরেন্সের। কোম্পানিটির শেয়ারদর আগের দিনের ৪২ টাকা ৯০ পয়সা থেকে কমে দাঁড়ায় ৩৯ টাকা ১০ পয়সায়, দরপতন হয়েছে প্রায় ৮.৮৬ শতাংশ। দিনভর কোম্পানিটির ৪ হাজার ২২৯টি শেয়ার লেনদেন হয়, যার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ১৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
এ ছাড়া গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর ৪৫ টাকা থেকে কমে ৪১ টাকা ৯০ পয়সায় নেমেছে, পতন হয়েছে ৬.৮৯ শতাংশ; অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের দর ৩১ টাকা থেকে কমে ২৯ টাকায় নেমেছে, পতন হয়েছে ৬.৪৫ শতাংশ; পিপলস ইন্স্যুরেন্সের দর ৬০ টাকা ৯০ পয়সা থেকে কমে ৫৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে, কমেছে ৬.৪০ শতাংশ।
পতনের তালিকায় আরও রয়েছে সিকদার ইন্স্যুরেন্স ৬.০৫ শতাংশ, ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স ৬.০৪ শতাংশ, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ৫১.৪ শতাংশ, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স ৪.৭৯ শতাংশ, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স ৪.৬৪ শতাংশ, প্রাইম লাইফ ৪.৫৯ শতাংশ এবং এশিয়া প্যাসিফিক ইন্স্যুরেন্স ৪.৪৬ শতাংশ।
পতনের শীর্ষ তালিকায় থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে মেঘনা ইন্স্যুরেন্স ছিল সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া কোম্পানি। দিনভর কোম্পানিটির ৪ হাজার ২২৯টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যার বাজার মূল্য ছিল ১৯ কোটি ৫২ লাখ ১৬ হাজার টাকা। এ ছাড়া গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের ৫ কোটি ৮৬ লাখ ৬৬ হাজার ৭০০ টাকা, সিকদার ইন্স্যুরেন্সের ৪ কোটি ১৩ লাখ ১৪ হাজার ৪০০ টাকা এবং পিপলস ইন্স্যুরেন্সের ৩ কোটি ৫৯ লাখ ৫৮ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
অন্যদিকে, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্সের ৩ কোটি ৫৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা, এশিয়া প্যাসিফিক ইন্স্যুরেন্সের ২ কোটি ২২ লাখ ৫২ হাজার ২০০ টাকা, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের ১ কোটি ৮২ লাখ ৬০ হাজার টাকা, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের ১ কোটি ৪৫ লাখ ৭৯ হাজার ৯০০ টাকা, অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের ১ কোটি ৬৫ লাখ ৪৭ হাজার টাকা এবং প্রাইম লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ১০০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।






