শেয়ারবাজারের অন্যতম চালিকাশক্তি লাফার্জহোলসিম

সংগৃহীত ছবি
দেশের শেয়ারবাজারে বর্তমানে অন্যতম প্রভাবশালী ও শক্তিশালী শেয়ার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক মাসগুলোর বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ঊর্ধ্বমুখী রাখতে এই কোম্পানিটি ধারাবাহিকভাবে শীর্ষস্থানীয় ভূমিকা পালন করে আসছে।
শেয়ারবাজারের পরিভাষায় লাফার্জহোলসিম এখন বাজারের অন্যতম প্রধান সূচক টেনে তোলার কারিগর। সর্বশেষ ১৬ জুলাই সমাপ্ত সপ্তাহে কোম্পানিটি এককভাবে ডিএসই সূচকে ৮ পয়েন্ট যোগ করেছে। যা ছিল বাজারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগেও জুনের শুরুতে এটি ছিল সূচক বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি, যা একাই সূচকে ৫ পয়েন্টের বেশি যোগ করেছিল।
জুনের মাঝামাঝি সপ্তাহেও ৪ পয়েন্টের বেশি অবদান রেখে বাজারের ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছিল কোম্পানিটি। মাঝে জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে সামান্য দর সংশোধন হয়ে সূচকে পৌনে ২ পয়েন্টের মতো কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব ফেললেও, সামগ্রিকভাবে এর ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের বিপুল আগ্রহের কারণে লাফার্জহোলসিম লেনদেনের শীর্ষ তালিকাতেও নিজের স্থান পাকা করে নিয়েছে। বিদায়ী সপ্তাহে এটি ছিল পঞ্চম শীর্ষ গড় লেনদেন হওয়া শেয়ার, যার দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ কোটি ৮১ লাখ টাকা। বিনিয়োগকারীদের এই প্রবল চাহিদার কারণে শেয়ারটির সমাপনী মূল্য গত কয়েক সপ্তাহে ৫৪.৩ টাকা থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ৬০.৭ টাকায় পৌঁছেছে। বর্তমানে ডিএসইর মোট বাজার মূলধনের ১.৯১ শতাংশ বা ৭ হাজার ৪৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা এই কোম্পানির দখলে, যা একে বাজারের নবম বৃহত্তম মূলধনী কোম্পানিতে পরিণত করেছে।
লাফার্জহোলসিমের এই শক্তিশালী পারফরম্যান্সের ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে পুরো সিমেন্ট খাতে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে সিমেন্ট খাত যে ৭.১ শতাংশ সাপ্তাহিক রিটার্ন বা মুনাফা দিয়েছে, তার মূল চালিকাশক্তিই ছিল এই শেয়ারটি।
শেয়ারবাজারে কোনো কোম্পানির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা তখনই বাড়ে, যখন কোম্পানিটি নিয়মিত ভালো মুনাফা বা লভ্যাংশ দেয়। লাফার্জহোলসিম গত কয়েক বছর ধরে তাদের বিনিয়োগকারীদের জন্য ধারাবাহিকভাবে নগদ লভ্যাংশ দিয়ে আসছে।
কোম্পানিটি ২০২৫ সালে ৫০ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৪৮ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৫০ শতাংশ, ২০২২ সালে ৪৮ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদান করে। প্রতি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে এই শতাংশ হিসাব করায় ৫০ শতাংশ লভ্যাংশ মানে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা প্রতি শেয়ারে ৫ টাকা করে নগদ পেয়েছেন, যা তাদের আস্থাকে আরও সুসংহত করেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিভিন্ন নীতিগত সংস্কারের আশ্বাস এবং শেয়ারবাজার নিয়ে সরকারের ইতিবাচক অঙ্গীকার বিনিয়োগকারীদের লাফার্জহোলসিমের মতো ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন শেয়ারে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করছে। যখন বাজারে সংস্কারের হাওয়া বইতে শুরু করে, তখন বুদ্ধিমান বিনিয়োগকারীরা দুর্বল কোম্পানির পেছনে না ছুটে লাফার্জহোলসিমের মতো বড় ও লাভজনক কোম্পানির শেয়ার বেছে নেন। আকর্ষণীয় কর সুবিধা এবং নীতিগত সহায়তার এই সময়ে কোম্পানিটি কেবল সিমেন্ট খাতের নয়, বরং পুরো শেয়ারবাজারেরই গতিপথ নির্ধারণে অন্যতম নির্ভরযোগ্য স্তম্ভে পরিণত হয়েছে।




