পুঁজিবাজার ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলার দুয়ার খুলছে
- খসড়া আইন অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে বিএসইসি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
পুঁজিবাজার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা করার বিধান রেখে নতুন সিকিউরিটিজ আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯ এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ একীভূত করে এই নতুন আইনটি তৈরি করা হচ্ছে। এর মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আইনের খসড়াটি নতুন কমিশনের মতামতের জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) পাঠানো হয়েছে। কমিশনের মতামত যুক্ত করে এটি ফের অর্থ মন্ত্রণালয়ে যাবে এবং আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে মন্ত্রিসভায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, অকার্যকর পুঁজিবাজার ট্রাইব্যুনালকে সক্রিয়, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ কার্যক্রম সহজীকরণ এবং বিচারিক কাঠামো শক্তিশালী করে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে এ উদ্যোগ।
বিএসইসির বর্তমান চেয়ারম্যান মাসুদ খান সম্প্রতি জানিয়েছেন, কমিশন নিয়মিত অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না। আগের কমিশন প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা জরিমানা আরোপ করলেও আদায় হয়েছে ৩৩ লাখ টাকার মতো। এটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার ব্যর্থতা নয়; বরং বিচারিক কাঠামোর দুর্বলতা। সাধারণত কমিশন কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা জরিমানা করলে সংশ্লিষ্টরা হাইকোর্টে রিট করেন এবং অনেক ক্ষেত্রে স্থগিতাদেশ নিয়ে আসেন। ফলে বছরের পর বছর মামলা ঝুলে থাকে এবং জরিমানার টাকা আদায় বা সিদ্ধান্ত কার্যকর করা সম্ভব হয় না।
২০১৫ সালের জুনে শেয়ারবাজার-সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হলেও প্রত্যাশিত সাফল্য আসেনি। ট্রাইব্যুনালের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো, বর্তমান আইনে এখানে সরাসরি মামলা করা যায় না। প্রথমে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করতে হয়, যা পরে ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয়। এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বিচারকাজ।
ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ট্রাইব্যুনালে আসা ২৮ মামলার মধ্যে ১১টি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ১০টি হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত রয়েছে। বাকিগুলোর মধ্যে দুটি বাতিল ও দুটি ফেরত দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালে আসা তিনটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন, যার বিচারকাজ পরিচালনা করছেন গত ২২ জুন নিয়োগপ্রাপ্ত নতুন বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ।
বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে পুঁজিবাজার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল সচল করা জরুরি। তবে বর্তমানে সরাসরি ট্রাইব্যুনালে মামলা করা না যাওয়াই সবচেয়ে বড় বাধা। এ সমস্যা দূর করতে অর্ডিন্যান্স ও আইন একীভূত করে নতুন আইনে ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা করার বিধান যুক্ত করা হবে। এর মধ্যে আইনের খসড়াটি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আবার বিএসইসিতে পাঠানো হয়েছে। নতুন কমিশনের মতামত সাপেক্ষে তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পরে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। খসড়া আইনটি পাস হলে ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত হবে এবং অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা সহজ হবে।
এদিকে, বিচারিক দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে এবং হাইকোর্টে রিট মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে বিএসইসি। একই ধরনের মামলার জন্য নির্দিষ্ট বেঞ্চ থাকলে শুনানি দ্রুত হবে। পাশাপাশি একই ধরনের মামলার জন্য নির্দিষ্ট বেঞ্চ থাকলে শুনানি দ্রুত হবে এবং রিট বছরের পর বছর ঝুলে থাকবে না বলে মনে করে কমিশন।
বিএসইসির প্যানেল আইনজীবী মাসুদ রানা খান আগামীর সময়কে বলেছেন, মামলার সাক্ষী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বয়সের ভারে দুর্বল হয়ে পড়ায় ট্রাইব্যুনালের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি। হাইকোর্টে আসামিপক্ষের আনা স্থগিতাদেশের কারণে মূল মামলাগুলোর শুনানি বছরের পর বছর আটকে থাকছে। বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যানের উদ্যোগে হাইকোর্টে স্টে মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠনের পরিকল্পনাকে সাধুবাদ জানাই। এতে ট্রাইব্যুনালে আবার বিচার শুরু করা সহজ হবে। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলার সুযোগ তৈরি হলে শেয়ারবাজারে প্রতিষ্ঠা পাবে আইনের শাসন।




